Don’t Be Sad!!!— Riaz Mahmud

Featured

যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক।(সূরা বাকারঃ২৫৭)
আর আল্লাহ্‌ অবশ্যই সর্বোত্তম অভিভাবক।
যে তার অভিভাবক স্বয়ং আল্লাহ্‌কে বানাবে তার কোন হতাশা, দুশ্চিন্তা থাকা উচিত না।
“লা তাহযান” “Don’t Be sad” “হতাশ হবেন না”

images (2)

হিজরতের দেশের ইমাম: মালিক বিন আনাস

মালিক বিন আনাস (র:) ছিলেন মস্ত এক ইমাম। তিনি সেসব অনুসৃত পন্ডিতদের মাঝে ছিলেন যাদের জ্ঞান দিগন্ত স্পর্শ করেছে। যার মাযহাবকে আল্লাহ তা’আলা দিয়েছেন স্থায়ীত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা। তিনি সেসব বরেণ্য সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত যাদের স্মরণে নেমে আসে রহমত, যাদের জীবনে আমাদের জন্য রয়েছে আদর্শ। আমরা কথা বলব হিজরতকারীদের যে দেশ মদীনা সে দেশের ইমামের ব্যাপারে: ইমাম মালিক বিন আনাস (র:)।

 

তার জন্ম ও সুসংবাদ

 

ক্ষণজন্মা মহান ইমাম মালিক বিন আনাস বিন মালিক বিন আবী ‘আমির আল-আসবাহী আল-মাদানী জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ৯৩ হিজরি সনে। এটা সেই বছর যাতে সাহাবী আনাস বিন মালিক (রা:) মৃত্যুবরণ করেন। ফলে আল্লাহ্‌ তা’আলা উম্মাহ্‌কে এই ইমাম দিয়ে শূণ্যতা পূরণ করলেন।  

 

ইমাম মালিকের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে সহীহ হাদীস এসেছে যা চার সুনানের ইমামগণ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন: নবীজী (সা:) বলেন: “এরকম অবস্থা দাঁড়াবে যে মানুষ দ্রুত উটে সওয়ার হয়ে ভ্রমণ করবে ‘ইলমের সন্ধানে, তারা মদীনার ‘আলেমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে পাবে না।”[১] আত-তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বা ভালো আখ্যা দিয়েছেন এবং আল-হাকিম একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। আয-যাহাবী বলেন: “এ হাদীসের বর্ণনাসূত্রটি পরিষ্কার এবং মাত্‌নটি গরীব”[২] ইব্‌ন হিব্বান ও অন্যান্যরা একে সাহীহ বলেছেন।

 

একদল ‘উলামা, যাদের মাঝে রয়েছেন ইব্‌ন ‘উয়াইনাহ্‌ ও ইব্‌ন জুরায়জ, মনে করেন হাদীসটির উদ্দেশ্য ইমাম মালিক, তিনিই আল্লাহ্‌র নবীর (সা:) সুসংবাদপ্রাপ্ত ‘আলেম যিনি আর কিছুদিনের মাঝেই ‘উলামাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ ‘আলেম হতে চলেছেন, ফলে তিনি হলেন মদীনার সেই ‘আলেম যার দিকে আঙুল নির্দেশ করা হয়েছে। তার দিকে অচিরেই মানুষ দ্রুত উট চড়িয়ে ভ্রমণ করে আসবে সর্বত্র থেকে।

 

মালিক বিন আনাস ছিলেন ধীর্ঘদেহী। বৃহৎ করোটি, চুল ছিলো না। মাথা এবং দাড়ি ছিলো শ্বেতবর্ণী। গায়ের ত্বক ছিলো ধবধবে সাদা থেকে একটু লালচে। তার পোশাক ছিলো ইয়েমেনের ‘আদ্‌ন শহরের অত্যন্ত ভালো মানের জোব্বা। তিনি গোঁফ পুরোপুরি ছাঁটা অপছন্দ করতেন এবং এটাকে ভুল মনে করতেন।

 

তার জ্ঞান ও ‘উলামাদের সাক্ষ্য

 

ইমাম মালিক (র:) প্রচুর শায়খদের কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাদের অনেকেই ছিলেন ডাকসাঁইটে তাবি’ঈ। আশ-শাফি’ঈ (র:) তার ব্যাপারে বলেন: “কোনও বর্ণনা আসলে মালিক ছিলেন তারকার তূল্য” [৩] (অনু: যেভাবে তারা পথ দেখায় যে কোনও বর্ণনার ক্ষেত্রে মালিকও তেমনি পথপ্রদর্শক)

 

ইব্‌ন মা’ঈন (র:) তার ব্যাপারে বলেন: “মালিক ছিলেন সৃষ্টির কাছে প্রেরিত আল্লাহ্‌র প্রমাণগুলোর একটি।”[৪]

 

তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস। অসংখ্য মানুষ তার কাছ থেকে হাদীস নিয়েছেন। তার মহাগ্রন্থ “আল-মুওয়াত্তা”। এটি হচ্ছে যেমনটি আশ-শাফি’ঈ (র:) বলেছেন: “আল্লাহ্‌র কিতাবের পর পৃথিবীপৃষ্ঠে আর একটিও বই নেই যা মালিকের বইয়ের চেয়ে সঠিকতর।”[৫]

 

আশ-শাফি’ঈ (র:) কথাটি বলেছেন এ কারণে যে তখনও মানুষের হাতে সহীহ বুখারী বা সহীহ মুসলিম এসে পৌঁছয়নি। ফলে আল-মুওয়াত্তা ছিলো তার সময়ে আল্লাহ্‌র রাসূলের (সা:) হাদীসের বই সমূহের মধ্যে সঠিকতর।

 

আশ-শাফি’ঈ বলেন: “যদি কোনও বর্ণনা হাতে আসে তবে মালিক হচ্ছেন তারার মতো।”[৬]

 

তিনি আরও বলেন: “মালিক এবং ইব্‌ন ‘উয়াইনাহ্‌ হচ্ছেন দোসর। যদি তারা না থাকতেন হিজাযের জ্ঞান বিতাড়িত হতো।”[৭]

 

আশ-শাফি’ঈ এও বলেন: “যদি মালিকের কাছ থেকে কোনও হাদীস আসে তাহলে তাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো।”[৮]

 

সুফ্‌য়ান বলেন: “মালিক হচ্ছেন ইমাম।”[৯]

 

ইয়াহ্‌ইয়া বিন সা’ঈদ আল-কাত্তান বলেন: “মালিক হচ্ছেন হাদীসের আমীরুল-মু’মিনীন।”[১০]

 

ইব্‌ন ওয়াহ্‌ব বলেন: “মালিক যদি না হতেন আমরা রসাতলে যেতাম।”[১১]

 

ইব্‌ন কিলাবাহ বলেন: “মালিক ছিলেন তার সময়কার সবচেয়ে বড় (হাদীস) সংরক্ষণকারী।”[১২]

 

ইব্‌ন উয়াইস হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে আমার মামা মালিক বিন আনাস বলেছেন: “এই জ্ঞান হচ্ছে দ্বীন, সুতরাং খেয়াল করো কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন নিচ্ছ। আমি এই থামগুলোর কাছে সত্তর জনকে দেখেছি যারা বলেছে যে অমুক বলেছে যে আল্লাহ্‌র রাসূল (সা:) বলেছেন, কিন্তু আমি তাদের কাছ থেকে কিচ্ছু নিইনি। অথচ এদের একজনের কাছেও যদি বায়তুল মালকে আমানত হিসেবে রাখা হয় তারা বিশ্বস্তই থাকবে। (নিইনি) কেননা তারা এই বিষয়ের মানুষ না। এরপর আমাদের কাছে এলেন ইব্‌ন শিহাব আয্‌-যুহরী, তো আমরা তার দরজায় ভিড় জমালাম।”[১৩]

 

তিনি ছিলেন একজন ফিক্‌হ (ইসলামি বিধান শাস্ত্র) শাস্ত্রবিদ বা ফাকীহ। তার মাযহাব দিগন্তভর বিস্তৃত হয়েছে। প্রচার পেয়েছে মরক্কো, আনদালুস (মুসলিম স্পেনের একটি প্রদেশ), মিসরের বহু রাজ্য, শামের কিছু দেশ, ইয়েমেন, সুদান, বাগদাদ, কূফা ও খুরাসানের কিছু অংশ, আলজেরিয়ার কিছু দিক যেমন আহসা প্রভৃতি। আজ পর্যন্ত তার মাযহাব ৪টি প্রধাণ মাযহাবের একটি হিসেবে প্রচলিত ও বিখ্যাত হয়ে আছে।

 

তার জ্ঞান অর্জনের কাহিনী

 

ইমাম মালিক (র:) যখন জ্ঞান অর্জন করতেন তখন তার বয়স দশের সামান্য বেশি। যখন তিনি ফাতওয়া ইস্যু করার যোগ্যতা অর্জন করলেন তার বয়স মোটে আঠার। আর ‘ইলমের মজলিসে শিক্ষক হিসেবে যখন তিনি বসা আরম্ভ করলেন, তার বয়স সবে একুশ। যখন মানুষ তার হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করেছে তখন তিনি যুবাবয়সে পদার্পণ করেছেন মাত্র। আবূ জা’ফর আল-মানসূরের খিলাফাতের শেষদিকে মানুষ সর্বত্র থেকে মালিকের কাছে ভ্রমণ করে আসা শুরু করেছে এবং তার মৃত্যু অবধি তার কাছে তারা ভিড় জমিয়ে রাখত।

 

এই তথ্যগুলো থেকে আমরা সেই পরিবেশের ব্যাপারে আঁচ করতে পারি যাতে ইমাম মালিকের মতো যুবকরা আমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মশীলদের যুগে বেড়ে উঠেছেন, এ থেকে কয়েকটি জিনিস আমরা বুঝতে পারি:

 

প্রথমত: নবীর শহরে জ্ঞান অর্জনের মর্যাদা। ছোট ছেলেটি সেখানে বড় হতো এই দেখতে দেখতে যে সবাই শায়খের দিকে আঙুল নির্দেশ করছে। সেই ‘আলেম যখন সামনে আসতো তারা মাথা নিচু করতো, রাস্তা ছেড়ে দিতো, সালাম আদায় করতো এবং তাকে সম্মান দেখাতো। কেননা এই ‘আলেম আল্লাহ্‌র রাসূলের (সা:) পথ নির্দেশনা ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের জ্ঞান তার সাথে নিয়ে ঘুরতো। তারা মনে করতো তাকে সম্মাননা দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র দ্বীনকে সম্মান করা হচ্ছে। ফলে শিশুটি বড় হতো এই ‘আলেমের জন্য ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান বুকে নিয়ে। তার মাঝেই সে খুঁজে পেত রোল মডেল। সেও চাইতো শায়খের উচ্চতায় ও মর্যাদায় পৌঁছতে।

 

ফলে শিশুটি কার্যত ছোটবেলা থেকেই ‘উলামা, ফুকাহা, দ্বীনের পথে আহ্বানকারী ও জিহাদে অংশগ্রহণকারীদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করার শিক্ষা পেত।

 

ইমাম আশ-শাফি’ঈ (র:), যিনি ইমাম মালিকের ছাত্র ছিলেন, বলেন: “আমি মালিক বিন আনাসের মাঝে যা দেখেছি তা হোলো সম্ভ্রম ও জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা। আমার মধ্যে এই অনুভূতি বড় হওয়া শুরু করলো এমনভাবে যে কখনও যদি আমি তার মজলিসে বসে পৃষ্ঠা উল্টাতে চাইতাম, তখন খুব সন্তর্পণে পৃষ্ঠা উল্টোতাম, তার প্রতি সম্ভ্রমের কারণে। তিনি যেন শব্দ না পান।”[১৪]

 

দ্বিতীয়ত: আমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মশীলদের প্রজন্মে পরিবেশ এবং মাধ্যমগুলো এমন ছিলো যে সেগুলো শিক্ষার প্রদানের জন্য তৈরি ছিলো। একজন ব্যক্তির শিক্ষা লাভের মাঝে কোনও বাধা বা ঝামেলা ছিলো না। ‘আলেম হোক অথবা ছাত্র – চাই কী তার বয়স চৌদ্দই হোক বা তার চেয়েও কম – যখন সে মসজিদে আসতো, সকল দরজাই খোলা পেত। সকল সুযোগই থাকতো উন্মুক্ত। মজলিসগুলো শিক্ষা দেয়ার জন্য তৈরি। যখন সে মার্কেটে যেত দেখত পড়াশোনার জন্য যা যা লাগবে তার সেগুলো সবই মিলছে। যখন সে বাড়িতে আসতো, সে বাবা-মা, ভাই-বোন ও পরিবারের সকল সদস্যের কাছে পেত ‘ইলম অর্জনের ও অব্যাহত রাখার আরও উৎসাহ যা কীনা তাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতো। যেন গোটা সমাজটিই তাকে মুখে বা হাবেভাবে বলতে চাইছে: “‘ইলম অর্জন করো, আমরা তোমার পেছনে আছি। যা সাহায্য লাগে আমরা দেব।”

 

ইমাম মালিকের সাথে তার মায়ের একটি গল্প আছে যা খুবই বিখ্যাত। তিনি ছেলেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রচন্ড উৎসাহ দিতেন। তার কাছে টাকা পয়সা যা আছে তা দিয়ে তিনি তাকে সাহায্য করতেন এই কাজে। যাতে করে তাকে ব্যবসায়ের হাল না ধরতে হয়। কেননা মাথায় যদি জীবিকা উপার্জনের চিন্তা ভর করে থাকে তবে তা অবশ্যই জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়াকে দূর্বল করে দেবে।[১৫] যেমনটি ইমাম আশ-শাফি’ঈ (র:) বলেছেন: “পেঁয়াজ কেনার কথা মাথায় ঘুরপাক খেলে মাসআলাহ (ফিক্‌হি সমস্যা) বোঝা লাটে উঠবে।”[১৬]

 

আশ-শাফি’ঈর এই কথা প্রতিকী বটে। তা নাহলে নবীর (সা:) সাহাবীগণ খাওয়া দাওয়া করতেন, বাজারে যেতেন, কেনাবেচা করতেন, চাষবাস করতেন, জিহাদ করতেন আবার পড়াশোনাও করতেন। এসব কিছুর পরও তারা ছিলেন ‘উলামাদেরও ‘উলামা।

 

কথা হোলো এই যে সমাজের উচিৎ একজন ‘ইলমের ছাত্রের জন্য সাহায্য ও সমর্থন দেয়া। যাতে করে একেবারে কচি বয়স থেকেই সে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং এর মাধ্যমগুলো তার জন্য তৈরি থাকে।

 

 

ফুটনোট

 

[১] হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৭৯২০), আন-নাসাঈ (৪২৯১) ও আত-তিরমিযী (২৬৮০)। তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান (এখানে বর্ণিত ভাষ্যটি তার)। হাদীসটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন ইব্‌ন হিব্বান (৩৭৩৬), আল-হাকিম তার মুসতাদরাকে (১/১৬৮) এবং তিনি বলেন: “মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ, বুখারী ও মুসলিম কেউই যদিও হাদীসটি বর্ণনা করেননি। আল-বায়হাকীও এটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন (১৬৮১)।

[২] সিয়ার আ’লাম আন-নুবালা (৮/৫০)

[৩] আল-জার্‌হ ওয়াত-তা’দীল (১/২৬০), হিলয়াতুল-আউলিয়া (৬/৩১৮), সিয়ার আ’লাম আন-নুবালা (৮/৯৬), আল-ইনতিকা: ইব্‌ন ‘আবদুল বার্‌র (পৃঃ ৫৫)

[৪] আল-ইনতিকা: ইব্‌ন ‘আবদুল বার্‌র (পৃঃ ৬৫), আত-তামহীদ (১/৭৭), সিয়ার আ’লাম আন-নুবালা (৮/৯৪)।

[৫] আত-তামহীদ (১/৭৭), ইব্‌ন আবী হাতিম তার আল-জার্‌হ ওয়াত-তা’দীলে (১/১২)

[6] ইব্‌ন আবূ হাতিম বর্ণনা করেছেন আল-জার্‌হ ওয়াত-তা’দীলে (১/১৪), ইব্‌ন ‘আদী করেছেন আল-কামিলে (১/৯২), ইব্‌ন ‘আবদুল-বার্‌র আত-তামহীদে (১/৬৪)

[৭] ইব্‌ন আবূ হাতিম বর্ণনা করেছেন আল-জার্‌হ ওয়াত-তা’দীলে (১/১২)

[৮] ঐ (১/১৪), ইব্‌ন ‘আদী: আল-কামিল (১/৯১)

[৯] আত-তারীখুল-কাবীর: আল-বুখারী (৭/৩১০)

[১০] তায্‌য়ীনুল-মামালিক: আস-সুয়ূতী (পৃঃ ১৯)

[১১] আত-তামহীদ: ইব্‌ন ‘আবদুল-বার্‌র (১/৬২)

[১২] তায্‌য়ীনুল-মামালিক: আস-সুয়ূতী (পৃঃ ২০)

[১৩] আত-তামহীদ: ইব্‌ন ‘আবদুল-বার্‌র (১/৬৬), আল-হিল্‌য়াহ: আবূ নু’আয়ম (৬/৩২৩)

[১৪] মানাকিবুশ-শাফি’ঈ: আল-বায়হাকী (২/১৪৪)

[১৫] আল-জামি’: আল-খাতীব আল-বাগদাদী (২/৩৮৪), আদ-দীবাজুল-মাযহাব (পৃঃ ২০)

[১৬] তাযকিরাতুস-সামি’ ওয়াল-মুতাকাল্লিম: ইবন জামা’আহ (পৃঃ ৭০-৭১)

জ্ঞানের প্রতি তার একাগ্রতা এবং দুনিয়া-বিমুখতা

 

তখনকার দিনে আজকের মতো শিক্ষা দীক্ষা এত বাধ্যতামূলক ছিলো না। সে যুগে তরুণরাও সবাই কিন্তু শার’ঈ জ্ঞানের মজলিসে বসতো না। তবে সেই পরিমাণ ছাত্র সবসময়ই মিলতো যাদের মাধ্যমে কাজ চলে যেত এবং আল্লাহ্‌র এই ঐশী নির্দেশ প্রতিপন্ন হতো: “মু’মিনদের জন্য এটি সমীচীণ নয় যে তারা একজোট হয়ে বেরিয়ে পড়বে, তাহলে কেন না তাদের প্রতিটি গোত্র থেকে একদল বের হয়ে আসে দ্বীনকে ভালো করে রপ্ত করার জন্য এবং ফিরে গিয়ে তাদের লোকদের সতর্ক করার জন্য যাতে তারা সাবধান হয়।”[আত-তাওবাহ্‌: ১২২]

 

ইমাম মালিক খুব অল্প বয়সেই জ্ঞান অর্জনের কাজ শুরু করেন। তিনি সাত বছর ইব্‌ন হুরমুযের কাছে ব্যয় করেন এবং এসময়টায় তিনি আর কারও সাথে মেশেননি।

 

ইমাম মালিকের জ্ঞানের প্রতি যে যত্ন তার প্রমাণস্বরূপ বর্ণনা এসেছে যে তিনি লম্বা সময় শায়খের দরজার সামনে অবস্থান নিতেন। ইব্‌ন হুরমুয টের পেতেন যে দরজায় কেউ আছে। তিনি কাজের মেয়েটিকে বলতেন দেখে আসতে। সে দেখে এসে তাকে জানাতো যে: “আর কে ঐ ফর্সা ছেলেটা ছাড়া!” তিনি বলতেন: “ডাকো ওকে, ও হচ্ছে মানুষদের ‘আলেম।”[১]

 

আরেকটি গল্প থেকেও মালিকের জ্ঞানের প্রতি আচরণ বোঝা যায়। সেটি হোলো ‘আবদুল্লাহ্‌ ইবন ‘উমারের খাদেম নাফি’-র কাছে তার যাওয়ার গল্প। তিনি একটি ফন্দি করতেন যাতে নাফি’-র সাথে দেখা হবার আগে তিনি বেশ কষ্ট করেছেন এরকমটা বোঝানো যায়। এজন্য তিনি দীর্ঘ সময় সূর্যের প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এরপর নাফি’ দেখা দিলে মালিক তাকে অনুসরণ করতেন। এরপর তার সুযোগ মিলত তাকে জিজ্ঞেস করার এবং তার কাছে জ্ঞান নেবার। মালিক নিজেই গল্পটি এভাবে বর্ণনা করেছেন: “আমি বেলা দ্বিপ্রহরে নাফি’র কাছে যেতাম, সেসময় গাছও সূর্য থেকে আমাকে ছায়া দিতে পারতো না। আমি তার বের হয়ে আসার জন্য বসে থাকতাম। এরপর তিনি বের হলে আমি এক ঘন্টার জন্য তাকে ছেড়ে দিতাম যেন আমি তাকে দেখিইনি। এরপর আমি তার কাছে যেতাম এবং সালাম দিতাম, এরপর আবার ছেড়ে দিতাম। এরপর যখন তিনি মসজিদে ঢুকলেন আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম: “ইব্‌ন ‘উমার এই এই ব্যাপারে কী বলেছেন?” তখন তিনি উত্তর দিতেন। অতঃপর আমি তাকে ছেড়ে দিতাম।”[২]

 

মালিক ছুটির দিন বলে কিছু বুঝতেন না, এমনকী ঈদের দিন হলেও। বরং তিনি ঈদের দিনের জন্যই অপেক্ষা করতেন কারণ জানতেন যে সেদিন ভিড়-ভাট্টা কম হবে। ফলে সেদিন তিনি ইবন শিহাব আয-যুহরীর বাড়িতে যেতেন, আয-যুহরী শাম থেকে মদীনায় ফিরে আসার পর।

 

এই ঈদের দিন পাঠ নেয়ার গল্পও মালিক নিজেই বলেছেন: “ঈদের দিন যখন আসলো আমি নিজেকে বললাম এই দিনে তো ইব্‌ন শিহাব খালি থাকবেন। তাই আমি মুসাল্লা (সালাত আদায়ের জায়গা) থেকে বের হয়ে তার দরজার সামনে গিয়ে বসলাম। আমি শুনতে পেলাম যে তিনি তার কাজের মেয়েটিকে বলছেন দেখতে দরজায় কে? সে দেখে তাকে বলল: ‘আপনার সেই ফর্সা মওলা মালিক।’ তিনি বললেন: ‘ঢোকাও ওকে।’ আমি ঢুকলাম। তিনি বললেন: ‘কী ব্যাপার তুমি বাড়ি যাওনি?’ বললাম: ‘না।’ তিনি বললেন: ‘খেয়েছ কিছু?’ বললাম: ‘না।’ বললেন: ‘খাও তাহলে এখন।’ আমি বললাম: ‘দরকার নেই।’ তিনি বললেন: ‘কী চাচ্ছ তাহলে?’ বললাম: ‘হাদীস বলুন আমাকে।’ তখন তিনি বললেন: ‘ঠিক আছে, নাও।’ আমি তখন আমার শ্লেট বের করলাম এবং তিনি আমাকে চল্লিশটি হাদীস বললেন। আমি তখন বললাম: ‘আরও বলুন।’ তিনি বললেন: ‘যথেষ্ট হয়েছে, তুমি যদি এই হাদীসগুলো বর্ণনা করতে পারো তাহলে তুমি একজন হাফিয।” আমি বললাম: “করেছি আমি বর্ণনা এগুলো।’ তখন তিনি আমার হাত থেকে শ্লেটগুলো নিয়ে নিলেন এবং বললেন: “বলো।” আমি ঠিকঠাক বললাম। তিনি ফিরিয়ে দিয়ে বললেন: “ওঠো, তুমি এখন জ্ঞানের এক আধার।”[৩]

 

ফুকাহা ও মুহাদ্দিসদের সাথে এই অধ্যবসায় মালিক কেবলমাত্র নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথেই পালন করতেন না, বরং পালন করতেন সানন্দে ও পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে। তার অসামান্য প্রতিভা অবশ্যই তাকে সাহায্য করেছে। আরও যে ব্যাপারটি তাকে সাহায্য করেছে সেটি হোলো বহু সংখ্যক ফাকীহদের উপস্থিতি এবং তাদের সেই পর্যায়ের দয়া যে তারা ছাত্রদের ‘ঈদের দিনেও স্বাগত জানাতেন এবং তাদের জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করতেন। হবে নাই বা কেন, তারা ছিলেন মদীনার উস্তাদ যারা বেড়ে উঠেছেন আল্লাহ্‌র রাসূলের (সা:) নিজ হাতে গড়া পরিবেশে। যেখানে তিনি (সা:) রেখে গেছেন উত্তম চারিত্রিক গুণাবলির সম্ভার যা কখনও ফুরোবার নয়।[৪]

 

ইমাম মালিক (র:) আজ আমাদের সামনে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্বের নমুনা যিনি নিজের প্রতিভা ও ক্ষমতাকে দেখেছেন জ্ঞানের সংরক্ষণ ও প্রসারের মাধ্যমে ইসলামকে খেদমত করার মাধ্যম হিসেবে।

 

দুনিয়ায় মজে যাওয়া মানুষদের সাথে মালিকের (র:) দেখা হয়েছিলো যারা তাকে জ্ঞানার্জন ছেড়ে দিতে প্ররোচিত করেছিলো। তিনি ঘৃণাভরে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এবং মনে করেছিলেন যে যা আল্লাহ্‌র কাছে রয়েছে সেটাই উত্তম এবং স্থায়ী।

 

আরেকদল এসে তাকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করল জ্ঞানের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে বরং জিহাদের কাজে আত্মনিয়োগ করতে। তার মত ছিলো যে তিনি যা করছেন এটাও উত্তম আর তারা যা করছে সেটাও উত্তম। একটি ফারদ্‌ কিফায়াহ (সামষ্টিক ফরজ কাজ) অপরটির শূণ্যতা পূরণ করতে পারে না। প্রত্যেকেই ইসলামের ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে রয়েছে।

 

তার সাথে দেখা হোলো ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আবদুল ‘আযীয আল-‘উমরী-র মতো দুনিয়াবিমুখ মানুষের। আল-‘উমরী ছিলেন দুনিয়া-বিমুখতা, তাকওয়া, ধার্মিকতা ও সাধুতায় একজন ইমাম। যখন ইমাম মালিকের সাথে তার দেখা হোলো তিনি তাকে দুনিয়া-বিমুখতা এবং মানুষের সাথে মেলামেশা পরিত্যাগ করার আহ্বান জানালেন। ইমাম মালিক মন দিয়ে তার কথা শুনলেন এবং তার জন্য দু’আ করলেন। কিন্তু তিনি তার মত গ্রহণ করলেন না যে মানুষের সঙ্গ পরিত্যাগ করতে হবে। বরং তিনি মানুষের মাঝে কাজ করা ও তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করাকেই শ্রেয় মনে করলেন।

 

কিন্তু আজকের দিনে ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আবদুল-‘আযীযের মতো সাধু ব্যক্তিরাই বা কোথায়?

 

মালিক (র:) ‘আবদুল্লাহ্‌র কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছিলেন যাতে তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ‘আয্‌যা ওয়া-জাল্ল্‌ কর্মসমূহকে ভাগ করেছেন যেভাবে তিনি রিজিককে ভাগ করেছেন। হয়তো একজন ব্যক্তির জন্য সালাতের দরজা যেভাবে খুলে দেয়া হয়েছে সেভাবে সাওমের দরজা খোলা হয়নি। আরেকজনের জন্য দান খয়রাতের দরজা খুলে দেয়া হয়েছে কিন্তু সাওমের দরজা খোলা হয়নি। অপর একজনের জন্য জিহাদের দরজা খুলে দেয়া হয়েছে কিন্তু সালাতের দরজা সেভাবে খোলেনি। জ্ঞানের প্রসার ঘটানো এবং শিক্ষা দেয়া উত্তম কর্মসমূহের সবচেয়ে ভালোগুলোর একটি। এ থেকে যতটুকু আমার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে তা নিয়ে আমি খুশি এবং আমি মনে করি না যা নিয়ে আমি আছি তা আপনি যা নিয়ে আছেন তার চেয়ে কম কিছু। আমি আশা করি যে আমরা প্রত্যেকেই ভালোর ওপর আছি। আমাদের প্রত্যেকের তাই উচিৎ হবে তার জন্য কর্মের যে ভাগ পড়েছে তাতে খুশি থাকা। সালাম আপনাকে।”[৫]

 

তার বেশভুসো

 

মালিক (র:) ছিলেন দীর্ঘদেহী ও সুদর্শন। অত্যন্ত ফর্সা ছিলেন তিনি। সুন্দর চেহারা। টানা চোখ। যখন তিনি বাইরে আসতে চাইতেন মানুষের সামনে, ভালো করে সেজে গুজে সুগন্ধি ব্যবহার করে বের হতেন। তিনি মিস্‌ক ও অন্যান্য খুবই ভালো মানের সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। পোশাক-আসাকের ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাবধানী। পূর্ণাঙ্গ সাজ ছাড়া তাকে কেউ কখনও দেখেনি।

 

বিশ্‌র বিন আল-হারিস বলেন: “আমি মালিকের কাছে আসলাম। দেখলাম যে তিনি একটি ‘তায়লাসান’ (দামী সবুজ কাপড় যাতে সেলাই থাকে না) গায়ে চাপিয়েছেন যার দাম অন্তত পাঁচশ (দিনার সম্ভবত) হবে, এর দুই পাশ তার চোখের ওপর এসে পড়েছিলো এবং দেখাচ্ছিলো একদম রাজা-বাদশাদের মতো।”[৬]

 

যখন তিনি পাগড়ি চাপাতেন সেটির দুই পাড়কে তিনি চিবুকের নিচ দিয়ে ঘাড়ের দুই পাশে ঝুলিয়ে দিতেন।[৭]

 

উলের কাপড় পড়ার ব্যাপারে তিনি বলতেন: “সফর ছাড়া ওটা পড়ার মধ্যে ভালো কিছু দেখি না, কেননা ওটা হচ্ছে প্রচারমুখিতা।” [৮] অর্থাৎ যে ওটা পড়ে সে মানুষকে তার দুনিয়াবিমুখতা ও বিনম্রতা প্রদর্শন করছে।

 

তিনি যখন হাদীসের পাঠ দিতে বের হতেন প্রথমে সালাতের জন্য অজু করতেন। এরপর তার সবচেয়ে ভালো পোশাকটি পরিধান করতেন। টুপি মাথায় দিতেন। দাড়ি আঁচড়াতেন। কেউ তাকে এটা নিয়ে খোঁটা দিলে তিনি বলতেন: “আমি এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র রাসূলের (সা:) হাদীসকে সম্মান দিচ্ছি।”[৯]

 

এই সুন্দর বেশবাস ধার্মিকতা, জ্ঞান, ইমামতি, বুদ্ধি বা ব্যক্তিত্ববোধের অন্তরায় নয়। বরং আল্লাহ্‌র রাসূলের (সা:) শহরের মানুষ হিসেবে মালিকের জন্য এটা যথেষ্টই শোভা পায়। দুনিয়ার ঐশ্বর্য মানুষের হাতে আসা শুরু করেছিলো। এমন কাউকে তাদের দরকার ছিলো যে তাদের বুঝিয়ে দেবে এভাবে সাজসজ্জা করাতে কোনও সমস্যা নেই। তাছাড়া তার ব্যক্তিত্ব ও স্বভাবের সাথেও এটি ছিলো সাযুজ্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন বাদশাদের পৌত্র। নিজেও ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিত্বশীল ও রাশভারী। রাজারা তার দরজায় কড়া নাড়ত এবং তার সামনে এসে বসতো যেমনটি আর-রাশীদ করেছিলেন। মানুষ দেখতে পেত একজন ‘আলেমের  আত্মম্ভরিতাহীন সম্মান ও গুরুত্ব।

 

 

ফুটনোট

 

[১] তারতীবুল-মাদারিক (১/১৪৮), পৃঃ ১৩১-ও দ্রষ্টব্য

[২] আদ-দীবাজুল-মাযহাব (পৃঃ ১১৭), আল-আইম্মাতুল-আরবা’আহ: ড: আশ-শুক’আহ (পৃঃ ১৩)

[৩] তারতীবুল-মাদারিক

[৪] আল-আইম্মাতুল-আরবা’আহ: ড: আশ-শুক’আহ (পৃঃ ১৪)

[৫] আত-তামহীদ (৭/১৮৫), সিয়ার আ’লাম আন-নুবালা (৮/১০২)

[৬] আদ-দীবাজুল-মাযহাব (পৃঃ ১৯)

[৭] সিয়ার আ’লাম আন-নুবালা (৮/৬৩)

[৮] আদ-দীবাজুল-মাযহাব (পৃঃ ১৮)

[৯] তা’যীম কাদরিস-সালাহ (২/৬৬৯), হিল্‌য়াতুল-আওলিয়া (৬/৩১৮), তাহযীবুল-কামাল (২৭/১১০)

28 Tips To Be A Successful (Muslim) Spouse! – Yusuf Estes

 

Image

Marriage is considered “Half the Deen” (very important part of Islam). 
Yet we are seeing failures in marriages all around us. Family fights are on the rise, women and children are being abused and many families are falling apart. More and more marriages are ending up in divorce even amongst the most religious of families, and the Muslims are no exception. 
So many marriages are failing these days, even amongst the most religious of families, and Muslims are no exception. 
This greatly saddens me and I hope by publishing this article here on our website, we might come to a better understanding and better relationship with our spouses, inshallah.

Here are just a few tips and at the end I am offering a number of sources for details and follow-up.Marriage application

1. Sisters & BrothersThese tips are for the Believers – Male & Female. So, both of you, make Du’a to Allah to make your marriage and relationship successful – We all know, as believers, all good things are from Allah. Never forget to ask Allah for the blessing of having a successful marriage that begins in this world and continues on – into Paradise, inshallah.

2. Listen & Obey – ALLAH! (then each other) – First rule of obedience is to Allah, and then the wife to the husband (Quran chapter 4, verse 34).
Obeying your husband is obligatory! But what about the husband? Doesn’t he have to obey?

Sisters: Your husband is the Ameer (head) of the household. Give him his rights and respect, and Allah will give you your rights.

Brothers: First rule of obedience for you is, after Allah and His messenger, who has the most rights? (Your mother, your mother, your mother and then your father). After your parents, who? Your wife (don’t pretend you didn’t know this).
Same surah, same ayah – Read:

Quran (Surah An-Nisaa’ chapter 4, The Women, verse 34):
Men (males) are responsible for women (females) because of what Allah has given one over the other (in strength) and they (males) spend (forfemales maintenance) from their wealth. So righteous women are obedient (to Allah), guarding in (husbands) absence what Allah wants them to guard. But for those (wives) from whom you observe arrogance and refusal, admonish them; (if they persist), leave their beds; and (lastly), tap (percuss) them. But if they comply, seek no further means against them. Indeed, Allah is ever Exalted and Grand.

3. Be Pleasing To Each Other – After what pleases Allah, always seek to please your spouse, this is your key to Jennah.

Sisters: Prophet Muhammad (peace be upon him) taught us that any woman who dies in a state that her husband is pleased with her, she shall enter Paradise. So, try your best to please him (even when you think it is not worth it – it is still worth it)

Brothers: Did you read the way our prophet, peace be upon him, dealt with his family? Wake Up! You must follow his way in helping with cooking, cleaning and taking care of your own clothes (he did it, you can do it too).

4. Do not get Angry – Arguments a fire in your home – put out the fire as fast as possible. Our prophet, peace be upon him, said, “Do not become angry! Do not become angry! Do not become angry!”And he told us anger is from the devil (shayton) and the shayton runs through your body like your blood when you become angry.

Sisters: You already know men have a hard time admitting they are wrong. In fact, some men refuse to say it, and this is very dangerous for them, but also for you too. Be careful not to force the issues with him when he is upset. Treat him like the baby that he is imitating. Really, just take it easy and keep your cool. Allah will reward you and inshallah, Allah will guide your husband back on track.

Brothers: You know you are not perfect. Come on now, admit it and get it over with. Say, “I am sorry”. You can be the one to extinguish the fire of shayton in your home with a simple ‘I’m sorry’ even if you think it is not your fault. 
When you fight back, you are only adding wood to the fire. Watch how sweetly an argument will end when you just say sincerely, “Look, I’m sorry. Let it go.”

5. Say, “Thank you” to your spouse constantly for the nice things done nicely.

Sisters: Prophet, peace be upon him, taught us; “Whoever does not thank the people, does not thank Allah“. So, just go ahead and say, “Thanks honey” and even add “Good job” or “Well done”. This is one of the most important techniques. Remember ungratefulness (opposite) is a characteristic of the people of hellfire. May Allah save all of us from that, ameen.

Brothers: When was the last time you said, “Thank you honey” to your wife for cleaning house, washing clothes, ironing, bathing the children, taking them to school, teaching them things? You say, “But she does that every day” — And that is the point! She is doing this day after day – But where is the pay? Give her something to make her feel worthwhile, say it!

6. Enjoy games, playing and joking around with your spouse:

Sisters: You can play some jokes on your husband, but don’t lie or hurt his feelings. Men look for seek women who are light-hearted and have a sense of humor.

Brothers: Our Prophet (peace be upon him) told Jabir, may Allah be pleased with him, “Marry someone who makes you laugh and you make her laugh”.

7. Dress up for each other and look sharp. Islam encourages us to look and act our best in front of everyone, especially loved ones.

Sisters: Wear nice jewelry and dress-up at home for your husband. From the early years, young girls adorned themselves with earrings and bracelets and wore nice dresses – as described in the Qur’an. As a wife, you should continue to use the jewelry and the nice dresses for your husband.

Brothers: Do you think only sisters need to “dress-up”? What about our prophet, peace be upon him? He wore his nicest clothes, he even made sure to wash his own garments. And what about smells? You know how important fragrance is. Don’t ever let her smell your stinky sweat. She smells nice for you, so at least put on nice fragrance for her – you do it at the mosque, right?

8. Be like the people of Paradise – Act right, think right and look right (try this tip today)

Sisters: Do you know about the characteristics of the Hoor Al-Ayn(women of paradise)? Islam describes these women with certain characteristics. They wear silk, have beautiful, dark eyes, etc. Here are some ideas: Try it, wear silk for your husband, put eye make-up for your eyes to ‘enlarge’ them, and be sweet to your husband.

Brothers
Where are your spouses going to get the fine silk dresses, provocative lingerie, sweet fragrance and makeup? Quran tells us (Surah 4, verse 34 – above) You are the one responsible to provide – so get with it and start providing.

9. Spread “Peace” amongst yourselves. This is in Islam for sure. The Quran talks about it, and our prophet, peace be upon him, said, “You will not enter Paradise until you believe and you will not believe, until you love each another. Shall I direct you to the way to love each other? Spread the “salams” (peace) between you.” – narrated by Abu Hurairah

Sisters: When your spouse comes home, give each other the most wonderful greeting of a Muslim – “Salam alaykum wa Rahmatullah wa Barakatahu” Peace, Blessings and Mercy of Allah be to you, (and remember to smile).

Brothers: You give the “salams” to everyone you see, even brothers you just met. In fact, you are careful to give anyone you just met good salams – right? But what about your wife? The mother of your children? The one who is making dua for you every day and night? Do you give the proper salams to her, when you should? Entering and leaving the house? When you enter or leave a room?

10. Smile – It costs nothing and buys everything! Who can resist a nice, big, happy smile? It even makes me smile to think about it.

Sisters: Our prophet, peace be upon him, taught us; The smile in the face of our fellow Muslim is an act of charity. So you can keep peace in your family, make a sweet feeling in your home, get rewarded by Allah and maybe even a nice smile back.
Think how your husband would feel if he came in and found your nice clean home, his wife looking nicely dressed and made up for him, a nice dinner prepared with care, children cleaned up and welcoming him home. It really does help, even if he doesn’t say so.

Brothers: When was the last time you smiled at your wife? Can you recall the last time you brought home some flowers, chocolates, a small gift (nothing wrong with a nice of jewelry brother)?

11. Work! That’s right, you have family jobs. Get to work your house, your children, your duties to your wife and family.

Sisters: Look around you. What is that stack of clothes all about? How come there is so much clutter in the kitchen? The bedroom looks like someone slept in it? (you did) The hallway looks like a storage building. Forget laundry room. No, the TV doesn’t need you – the house needs you. 

Brothers: What about lending a hand for the hard stuff? Why not take some time to clean up the bathroom or basement or attic? You know, the hard to reach places and the places where spiders, bugs and insects collect? What would this do to her love for you? Now imagine what if you just bust in the door, shouting orders, complaining about your hard day at work and don’t even notice how much she has to do every day.

12. Attraction – Allah Tells us in Quran, He made one male and from him the first female and made all people from them. You know how it works. Charm is the key to attraction. Kindness and understanding are the keys to charm. So, be kind to each other and use your attraction to bring your hearts together.

Sisters: Use your ‘Zina’ to win the heart of your husband. Every woman has Blessings from Allah, including the “beauties” and “ornaments” that attract men. But then you already know that, don’t you?
OK – So USE THEM.
Your hair, your eyes, your smile (mentioned above, remember) and your clothes (and the way you wear them), all these can work together to help bring out the man you really want. You know what he likes and get all “fuzzy” in the head. Go straight for the heart.

Brothers: She did not marry a couch potatoe. She is looking for that cute guy you were when she accepted the marriage proposal. Where is that guy? The nice clothes, shiny shoes, clean smell, soft words, you know – (the way you were).

 

OK – Next we eight tips about what weakens the marriage and eight tips to strengthen the marriage.

8 Things Which Weaken The Marriage:

1)  Misbehaving – saying bad or hateful things, making bad jokes and insulting each other.

2)  Ignore – not replying back to the “salams” or giving each other the good ear to listen and share.

3) Lying – Allah forbids the believers to lie. There is no room in Islam for liars, and may Allah save us from this evil, ameen.

4) Breaking Promises – Keeping a trust is also an important characteristic of a believer.

5) Avoiding Contact – You hug the brothers at the mosque, but what about a “little hug” with your wife? Come on, you can do it.

6) Suspicion & Backbiting – Allah says, “O believers, avoid much suspicion. Certainly suspicion is sinful. And don’t spy or backbite each other. Would any of you like to eat the flesh of your dead brother. You would hate it. Fear Allah’s punishment. For sure Allah is the Acceptor of repentance, The Merciful.” [Quran 49: 12]

7) Too Busy – Take time for each other. You have rights on each other. Give everyone their rights and you will be given your rights.

8) Leaving the worship – Allah will never be pleased with someone who leaves His guidance and does not worship Him. This will cause Muslim families serious problems and even to split up, faster than anything.

8 Things Which Strengthen The Marriage:

1) Good Attitude – A Muslim must always have a positive attitude toward life. We say, “Al Hamdulillah” (Praise be to Allah) for whatever He gives us (or doesn’t give us).

2) Help – Our prophet, peace be upon him, stressed the importance of men helping their wives and Allah tells us the importance of women being mates and helpers to their husbands. This is a real “win-win” situation, if we just follow it.

3) Trust – Muslims, men and women are ordered to be trustworthy and follow the example of our prophet, peace be upon him, as the “Trustworthy”.

4) Respect – You get respect, when you give respect. This is mandatory for all Muslims toward all people, how much more toward the spouse?

5) Joy – Our prophet, peace be upon him, used to entertain his wife, Ayesha and she used to play and race with him. She said, “I used to out-run him, but then when I got heavy he used to outrun me”. He told us to play with our wives.

6) Forgiveness – Clearly, this is one of the most important aspects of Islam. Whoever does not forgive – will not be forgiven. This comes from Allah, Himself. We must learn to forgive each other’s mistakes so we won’t it against us.

7) Time – Spend time, alone – together. Go for walks. Take a bus ride. Visit a friend or someone who is ill (you get big rewards for that). Fast together on Mondays & Thursdays if you can. Make hajj – this is a great way to get a “new start” on life. Trust me.

8) Worship – connection with Allah through ritual of prayer, petition and peace while moving together in the salat is something a non-Muslim can never really appreciate. Our prophet, peace be upon him, used to lead his wife in salat, even though he lived connected to the mosque. He told us not to make our homes like grave yards. We should offer some of our sunnah prayers at home. A sister gains the most rewards at home, in her room, behind a screen. 

Brothers & Sisters – Allah tells us what to do with the problems we just can’t seem to solve. It is in the very next verse after the one above, in Surah An-Nisaa’. Read…

And if you fear fighting between the two (married couple), appoint an arbitrator from his family and an arbitrator from her family. If they both desire reconciliation, Allah will cause it between them. Indeed, Allah is ever Knowing and Acquainted [with all things]. 
Quran Chapter 4, verse 35

The meaning here is most clear to me – DON’T BREAK UP – JUST WAKE UP! — & GET SOME HELP!

It is obvious that shayton wants you to break up communication, break up the dishes, break up the furniture, break up the relationship, break up the family, break up the children’s future…

But don’t do it. Follow what Allah tells us and consider what our prophet, peace be upon him, showed us with his life. Did he give up on the relationship with his wife? (no); Did he divorce his wife? (no); Did he scream at his wife? (no); Did he ever hit his wife? (no); Did he suspect or accuse his wife of something bad, when people came up with bad stories against her? (no).
But, was he patient when his wife played a tricks on him? (Yes). [Read about the “honey” in surah At-Tahreem, chapter 66]

Still have problems?
Did you both really try the tips above? We have more…

We own all of the following websites and provide the content, material and articles from the finest of English speaking scholars, many of them are personal teachers to me and I know their evidences are from Quran & Sunnah.

www.IslamsWomen.com (excellent articles, videos, audios, Answers to Questions and so much more)

www.ConvertsReverts.com (need help with someone who just came to Islam? Are you new to Islam? You will love these true stories from converts (reverts) who made their own videos and put them up on our website www.TubeIslam.com (and these are good for dawah to non-Muslim relatives too)

http://www.SearchForIslam.com (just type in any key words, like Google: “marriage” or “wife” or “husband” or “divorce”)

www.JustAskIslam.com (find answers to questions or ask your own individual question right here)

– www.ChatIslam.com (talk to our scholars in live chats every day – check the schedule for times)

– www.WatchIslam.com (find answers in our videos to help your problems)

– www.HearIslam.com (At last, we have the audios back up and you can download, copy, burn CDs and play in your car)

– www.GuideUS.TV (Watch Guide US TV live every day – Satellite in US & Canada on World TV 99 or iPhone/iPad apps download “guideus” and install anywhere in the world – or online www.GuideUS.TV/live

Again, make dua and ask Allah to help you and your family to have the best in this life and in the Next Life, and forgive us all and protect us from the Hell Fire, ameen.

দৈনন্দিন দোয়া

PAKISTAN-ASIA-QUAKE-MUSLIMS-PRAYER

ঘুমানোর পূর্বের দোয়াঃ

আল্লাহুম্মা বিস্মিকা আমুতু ওয়া আহ্ইয়া।

بِاسْـمِكَ أَمـوتُ وَأَحْـي اللّهُـمَّ

অর্থঃ হে আল্লাহ; আপনার নামে ঘুমাতে যাচ্ছি এবং আবার জেগে উঠব।

ঘুম থেকে উঠার পর দোয়াঃ

আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বাদামা আমাতানা ওয়াইলাইহিন্নুশুর

الحَمْـدُ لِلّهِ الّذي أَحْـيانا بَعْـدَ ما أَماتَـنا وَإليه النُّـشور

অর্থঃআল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা,যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করেছেন এবং তার নিকটই আমরা সবাই পুনরথখিত হবো।

পেশাব পায়খানায় যাওয়ার আগের দোয়াঃ

বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আঊযুবিকা মিনাল খুবুছিওয়াল খাবাইয়িছ

اللّهُـمَّ إِنِّـي أَعـوذُ بِـكَ مِـنَ الْخُـبْثِ وَالْخَبائِث.

অর্থঃআল্লাহর নামে। হে আল্লাহ্‌ আমি তোমার নিকট নাপাক জীন ও জীন্নীর ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

পেশাব পায়খানা থেকে বের হওয়ার দোয়াঃ

আল্লাহুম্মা গুফরানাকা

غُفْـرانَك

অর্থঃ হে আল্লাহ্‌ আমাকে ক্ষমা করো।

উত্তম রূপে ওযু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে

أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَـهَ إِلاّ اللهُ وَحْدَهُ لا شَريـكَ لَـهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمّـداً عَبْـدُهُ وَرَسـولُـه

আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াহ’ দাহু লা শারিকালাহু ওয়াশ হা’দু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহুয়া রাসুলুহু

অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তার কোন শরীক নাই এবং মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

আযানের শেষে দোয়াঃ

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدَاً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامَاً مَحْمُودَاً الَّذِي وَعَدْتَهُ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ

আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ্‌দা’ওয়াতিত্তাম্মাতি ওয়াস্‌সালাতিল ক্বায়িমাহ্‌ আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাতা ওয়াব্‌’আস্‌হূ মাকামাম্মাহমুদা নিল্লাযী ওয়া ‘আত্তাহূ, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী’আদ

অর্থঃ হে আল্লাহ! প্রভু (তুমি) এ পরিপূর্ণ আহ্বানের এবং চিরস্থায়ী নামাযের। তুমি মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নৈকট্যের উসিলা, মহত্ত্ব এবং সর্বাপেক্ষা প্রশংসিত মার্গে (অর্থ্যাৎ মাকামে মাহমুদে) আবির্ভূত করো তাঁকে, যার ওয়াদা তুমি দিয়েছো তাঁকে। নিশ্চয় তুমি কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করো না।

রব্বা-প্রভু, হাযিহি-এ, দাওয়াতে-আহ্বান, তাম্মাতে-পরিপূর্ণ, ওয়াস্‌সালাতি- এবং প্রার্থনার, কায়িমাহ্‌-চিরস্থায়ী, আতে-তুমি দান করো, ওয়াসীলাতা-নৈকট্যের উসিলা, ওয়াল ফাযীলাতা-এবং মহত্ত্ব, ওয়াব্‌’আসহূ-এবং তাঁকে আবির্ভূত করো,মাকামাম্মাহ্‌মুদা-সর্বপেক্ষা প্রশংসিত, ইন্নাকা লা- নিশ্চয় না/কখনো না, তুখ্‌লিফু-তুমি ভঙ্গ করো, মী’আদ-ওয়াদা)

বাড়ি থেকে বের হওয়ার দোয়াঃ

بِسْمِ اللهِ ، تَوَكَّلْـتُ عَلى اللهِ وَلا حَوْلَ وَلا قُـوَّةَ إِلاّ بِالله

বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আ’লাল্লাহি ওয়া লা হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ

অর্থঃ আল্লাহর নামে, আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রেখে রওয়ানা দিচ্ছি। আল্লাহ্‌ দেয়া ব্যাতীত ভালো আমল করার এবং মন্দ আমল থেকে বিরত থাকার কোন শক্তি ও ক্ষমতা নেই।

গৃহে প্রবেশ কালে দোয়া:

بِسْـمِ اللهِ وَلَجْنـا، وَبِسْـمِ اللهِ خَـرَجْنـا، وَعَلـى رَبِّنـا تَوَكّلْـنا

অর্থঃ আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করি, আল্লাহর নামেই আমরা বের হই এবং আমাদেও প্রভু আল্লাহর উপরই আমরা ভরসা করি অত:পর পরিবারবর্গের উপর সালাম বলবে।

 

 

মসজিদে প্রবেশের দোয়াঃ

arabic

বিসমিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আ’লা রাসুলিল্লাহি আল্লাহুম্মাফ তাহ’লী আবওয়াবা রাহ’মাতিকা

অর্থঃআল্লাহর নামে। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসুল (সঃ) এর উপর। হে আল্লাহ্‌ আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করো।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়াঃ

arabic

বিসমিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আ’লা রাসুলিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আছআলুকা মিন ফাদলিক

অর্থঃ আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, দরুদ ও সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর। হে আল্লাহ ! আমি তোমার অনুগ্রহ কামনা করি। হে আল্লাহ, বিতাড়িত শয়তান হতে তুমি আমাকে বাচাও।

খাওয়া শুরুর দোয়া:

arabic

বিসমিল্লাহি ওয়া আ’লা বারাকাতিল্লাহ।

অর্থঃ আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর দেয়া বরকতসমূহের উপর শুরু করছি

খাওয়া শেষের দোয়া:

arabic

আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআ’মানা ওয়া সাক্বানা ওয়া জাআ’লানা মিনাল মুসলিমীন।

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের পানীয় ও খাদ্য দিয়েছেন এবং আমাদের মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

কাপড় পরিধানের দোয়া:

الحمدُللهِالّذيكَسانيهذا (الثّوب) وَرَزَقَنيهمِنْغَـيـْرِحَولٍمِنّيوَلاقـوّة.

অর্থঃ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে ইহা পরিধান করিয়েছেন এবং আমার শক্তি ও সামর্থ ছাড়াই তিনি আমাকে ইহা দান করেছেন।

নতুন কাপড় পরিধানের দোয়া:

اللهملكالحمدأنتكسوتنية،أسألكمنخيرهوخيرماصنعله،وأعوذبكمنشرهوشرماصنعله.

হে আল্লাহ! তোমারই জন্য সকল প্রশংসা। তুমিই এ কাপড় আমাকে পরিয়েছ। আমি তোমার কাছে এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ ও এটি যে জন্য তৈরী করা হয়েছে সে সব কল্যান প্রার্থনা করি। আমি এর অনিষ্ট এবং এটি তৈরীর অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় কামনা করি।

কাপড় খুলে রাখার দোয়া:

بسمالله.

আল্লাহর নামে খুলে রাখলাম।

রাসুল (সঃ) আবু মুসা আশআরী (রা) কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি কি তোমাকে বেহেশ্তের ভান্ডারের মধ্য হতে একটি ভান্ডারের কথা বলে দেবো না? আবু মুসা (রা) বললেন, অবশ্যই ইয়া রাসুল্লাল্লাহ!

আল্লাহুম্মা ইন্নী আয়ু’যুকবিকা মিনাল বারাছী, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি ওয়া সায়্যিইল আছকাম।

(সূত্রঃ আবু দাউদ)

ফরজ সালাতের পর মাসনূন দোয়া সমুহঃ

১. নামাজের সালাম ফিরিয়ে ১ বার আল্লাহু আকবার اَللهُ اَكْبَرُ (আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ)

      (সুত্রঃ বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী)

২. আস্তাগফিরুল্লাহ اَسْتَغْفِرُ اللهَ (হে আল্লাহ্‌, আমাকে ক্ষমা করুন)-৩ বার

 (সুত্রঃ মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

৩. আল্লাহুম্মা আন্তাসসালাম ওয়ামিনকাসসালাম ওয়া তাবারাক্তা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম

اَللَّهُمَّ اَنْتَ السَّلَامُ وَ مِنْكَ السَّلَام تَبَارَكْتَ يَا ذا الْجَلَالِ وَاْلِإكْرَامِ-

 (হে আল্লাহ্‌, আপনি শান্তিদাতা, আপনার থেকেই শান্তি আসে, আপনি বরকতময়, আপনি মহত্তের অধিকারী এবং মহা সম্মানী)

                      (সুত্রঃ আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

৪. আল্লাহুম্মা আই’ন্নি আ’লা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হু’সনি ই’বাদাতিকা

اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

(হে আল্লাহ, আপনার যিকির, আপনার শুকরিয়া আদায় এবং উত্তম ইবাদতের জন্য আমাকে সাহায্য করুন) 

                                                     (সূত্রঃ আবু দাউদ)

৫. সুবহানাল্লাহ سُبْحَاَن الله -৩৩ বার,আলহামদুলিল্লাহ اَلْحَمْدُ لِلَّهِ -৩৩ বার,আল্লাহু আকবার اَللهُ اَكْبَرُ -৩৩ পড়ে ১ বার- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ’ দাহুলা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হা’মদু ওয়া হুয়া আ’লা কুল্লি শায়্যিন কাদির.

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْر

(আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি একক তার কোন শরীক নেই, তার জন্যই সকল রাজত্ব, তার জন্যই সমুদয় প্রশংসা, তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান )

                                    (সুত্রঃ মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিজি)

৬. আয়াতুল কুরসী

اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

– ১ বার

                                                 (সূত্রঃ নাসায়ী, মেশকাত)

৭. সূরা ফালাক, নাস, ইখলাস একবার করে।

سورة الفلق:

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ- مِن شَرِّ مَا خَلَقَ- وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ- وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ- وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ-

 

سورة الناس:

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ- مَلِكِ النَّاسِ- إِلَهِ النَّاسِ- مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ- الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ- مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ-

 

سورة الاخلاص:

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ- اللَّهُ الصَّمَدُ- لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ- وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ-

 

                                                                                                   (সুত্রঃ আবু দাউদ, নাসায়ী)

৮. সুবহা’নাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহা’মদিকা ওয়াসতাগফিরুকা ওয়াতুবু ইলাইক

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَاَسْتَغْفِرُكَ وَاَتُوْبُ اِلَيْكَ-

( হে আল্লাহ্‌, আমি আপনার তসবিহ পাঠ করছি, আপনারই প্রশংসা বর্ণনা করছি এবং আপনারই নিকট তওবা করছি) 

   (সুত্রঃ  নাসায়ী) 

 

৯. আল্লাহুম্মাগফিরলি মা কাদ্দামতু ওমা আখারতু ওমা আসরারতু ওমা আ’লানতু ওমা আন্তা আ’লামু বিহি মিন্নি আন্তাল মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুয়াখখিরু লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।

اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أََعْلَنْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ المُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ-

 (হে আল্লাহ্‌, আমার পূর্বের পরের গুনাহ, প্রকাশ্য ও গোপনীয় সর্বপ্রকার গুনাহ মাফ করুন, আমার পাপ সম্পর্কে আপনিই অবহিত। আপনি প্রথম আপনিই শেষ, আপনি ব্যতিত কোন ইলাহ নেই)

      (সুত্রঃ আবু দাউদ)  

প্যাকেট না প্রোডাক্ট- রেহনুমা বিনতে আনিস

আপনি কি প্যাকেট দেখে জিনিস কেনেন না প্রোডাক্ট দেখে?

মানে? ধরুন, আপনি নারকেল তেল কিনবেন। আপনি কি তেলের গুণগত মান দেখে- অর্থাৎ এই তেলে আপনার মাথা ঠান্ডা এবং চুল লম্বা ও ঝরঝরে হবে কি’না সেটা বিবেচনা করে তেল কিনবেন, নাকি তেলের বোতলটি কতখানি সুন্দর ও আকর্ষণীয় তা দেখে তেল নির্বাচন করবেন? হাস্যকর মনে হচ্ছে? অথচ এই হাস্যকর কাজটিই আমরা করে থাকি অহরহ।

আমাদের যুগের একটি গুরুতর সমস্যা হোল বাহ্যিক সৌন্দর্যপ্রীতি। সুন্দর জিনিস সবার ভালো লাগে, লাগাটাই স্বাভাবিক, এতে দোষের কিছু নেই। এটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তখনই যখন কোন বস্তুর মূল্যায়নে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রাইটেরিয়া হয়ে দাঁড়ায়, যখন এর তুলনায় আর সকল বিচার বিবেচনা সচেতনতা ব্যাকসিটে স্থান পায়। এই অতিরিক্ত সৌন্দর্যপ্রীতির কারণে আমরা অনেক দাম দিয়ে ভেজাল পটেটো চিপ্স কিনে বাচ্চাদের কচি মুখে তুলে দেই অথচ বাসায় ক’টা তাজা আলু কেটে তেলে ভেজে দেইনা, অনেক দাম দিয়ে লাল টুকটুকে আপেল কিনে আনি যদিও তার ভেতরটা হয় পঁচা পোকায় খাওয়া অথচ এর চেয়ে তিনগুণ পুষ্টিমানসম্পন্ন তাজা পেয়ারা অনাদরে পড়ে থাকে বাজারের ঝাঁকায়। খাঁটি জিনিসের মূল্যায়নের এই যোগ্যতা এবং মানসিকতার বিলোপ এখন আর কেবল বস্তুগত নির্বাচনের ক্ষেত্রেই সীমিত নেই বরং আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা শুধু বাহ্যিক দিক দেখে বিবেচনার ফলে ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হই।

যেমন ধরুন, যখনই কোন ছেলে বা মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র বা পাত্রী দেখা হয়- কোন কিছু জানার আগেই প্রশ্ন আসে, মেয়েটি দেখতে কেমন এবং ছেলে কি করে? একটু ভেবে দেখুন তো, জীবনের বন্ধুর পথে পরস্পরের হাত ধরে চড়াই উৎরাই পেরোবার জন্য এর কোনটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ? বৈজ্ঞানিক অবৈজ্ঞানিক জরীপসমূহের ফলাফলে দেখা যায় বৈবাহিক জীবনে সুখের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের ভূমিকার আয়ু বড়জোর ছ’মাস থেকে একবছর। তারপরে সম্পর্ক টিকে থাকে স্ত্রীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট এবং গুণাবলীকে কেন্দ্র করে নতুবা স্বামীর সহনশীলতা এবং মানবিক গুণাবলীকে অবলম্বন করে । আপনারা কি কখনো দেখেননি পরীর মত সুন্দরী বৌটাকে একবছর দু’বছরের মাথায় মুটিয়ে, মেদবহুল চামড়া ঝুলে পড়ে অন্যরকম হয়ে যেতে? অথবা কালো বৌটিকে ফর্সা সুন্দরী হয়ে যেতে? চাকরী, ব্যাবসা, পয়সা? হতেও দেরী নেই, যেতেও দেরী নেই। অনেক বড়লোক মানুষকে মূহূর্তে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবার ঘটনা নিজ চোখে না দেখলেও শোনেননি বা জানেননা এমন মানুষ কমই আছে। জীবনে চলার জন্য অর্থের প্রয়োজন অনস্বীকার্য, কিন্তু শুধু পয়সা দিয়ে যদি ভালোবাসা কেনা যেত তাহলে পৃথিবীর সব বড়লোকরাই সুখী বিবাহিত জীবন যাপন করতেন- এটি যে বস্তুত ঘটেনা তার ভুরি ভুরি উদাহরণ তো আপনারা সবাই জানেন।

তাহলে ভাবুন আমরা কত ঠুনকো কতগুলো বিবেচনার ওপর আমাদের সুখ, শান্তি, স্বস্তি, সাফল্য, ব্যর্থতা, বাবামা আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব সন্তানদের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখি!

আল্লাহ বলেছেন,

“আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।
নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। — [সূরা রূমঃ আয়াত ২১]“

তিনি আমাদের জন্য এমন সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন যার মাধ্যমে আমরা শান্তি স্বস্তি ভালোবাসা পেতে পারি যা আমাদের পার্থিব জীবনকে অর্থবহ করবে এবং পারলৌকিক জীবনকে করে তুলবে সম্ভাবনাময়। এখানে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহমর্মিতার মাধ্যমে দু’টি হৃদয়ের মাঝে সৃষ্ট বন্ধনের সাহায্যে শান্তি পাবার কথা বলা হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে কিছু পেতে হলে তাঁর নির্দেশিত পথ অনসরণ করতে হবে তা বলাই বাহুল্য।

ইসলামের একটি মূখ্য নীতি হোল পর্দাঃ

“* মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।

* ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” — [সূরা নূরঃ আয়াত ৩০-৩১]

এখানে আগে পুরুষদের পর্দার কথা বলা হয়েছে, অতঃপর মহিলাদের। ইসলাম চায় যেন একটি মেয়ে কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে বিবেচিত না হয়ে তার স্বীয় গুণাবলীতে উদ্ভাসিত হবার সুযোগ পায়। স্বাভাবিক অবস্থাতেই যদি একটি মেয়েকে তার গু্ণ দেখে বিচার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় তাহলে ভেবে দেখুন এতি বিয়ের ক্ষেত্রে এটি আরো কত বেশী গুরুত্বপূর্ণ! পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করার ব্যাপারে যে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তার মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হোলঃ পুরুষরা রঙ দেখে আকৃষ্ট হয় আর মেয়েরা আকৃতি দেখে। যেসব মেয়েদের গুণ আছে তারা নিজেদের সৌন্দর্য অ্যাডভার্টাইজ করে বেড়ায় না। সুতরাং পুরুষরা দৃষ্টি সংযত না করলে সেসব মেয়েদের দেখেই মুগ্ধ হবার সম্ভাবনা বেশী যাদের বাইরের সৌন্দর্যটাই সার। আর মহিলাদের নিজেদের সৌন্দর্য লুকিয়ে রাখতে বলার মূল উদ্দেশ্য তাদের এই সমস্ত চিন্তা এবং বিবেকবর্জিত পুরুষদের থেকে রক্ষা করা।

আবু হুরাইরা (রা) হতে জানা যায়, রাসূল (সা) বলেছেনঃ

“A woman is married for four things, i.e., her wealth, her family status, her beauty and her religion. So you should marry the religious woman (otherwise) you will be a losers. (Volume 007, Book 062, Hadith Number 027).

কেননা একটি মেয়ে তখনই তার স্বামীকে সুখী করতে পারে যখন সে তার প্রতি বিশ্বস্ত হয়, তার সম্পদ এবং সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ করে- বছরের পর বছর এই কাজটি কেবল তখনই করা সম্ভব যখন মানুষ আল্লাহকে ভয় করে। ভালোবাসা ওঠানামা করে- তুচ্ছ বিষয়ে ঝগড়া হলেও পরস্পরকে অসহ্য মনে হয়। কিন্তু আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের কারণে ঐ সময়েও একজন মহিলা তাঁর সংসারের ক্ষতির কথা ভাবতে পারেন না। একজন ধার্মিক মহিলা নিজগুণে না হলেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্বামী, শ্বশুরবাড়ীর আত্মীয়স্বজন, স্বামীর যাদের পছন্দ- সবার সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট থাকেন। আল্লাহর ভয়েই তিনি কেবল নিজেই যে ভালো থাকেন তাই নয় বরং স্বামীকেও অন্যায় হতে বিরত থাকার পরামর্শ এবং সহযোগিতা দেন। আমার এক ভাই বলেছিল, “আপা, আমি এমন মেয়ে চাই যে কেবল নিজে নামাজ পড়বেনা বরং আমাকে নামাজ পড়ার জন্য তাগাদা দেবে”। আপনারা এমন সুন্দরী বৌ কি দেখেননি যার চাহিদা পূরণ করার জন্য স্বামী ঘুষ খান আর তিনি স্বামীর কাঁধের ওপর পা রেখে বেহেস্তে যাবার স্বপ্ন দেখেন? এমন পুরুষও বিরল নন যারা নিজেরা দাড়িটুপি পরে সুন্দরী স্ত্রীকে প্রদর্শনীর সামগ্রীতে পরিণত করে রাখেন। এটিকে কি ভালোবাসা বা ন্যূনপক্ষে পারিবারিক সম্প্রীতি বলা যায়? সেই সুন্দর দিয়ে কি লাভ যা অন্তর পর্যন্ত বিস্তৃত নয়?

পাত্র নির্বাচনের ব্যাপারে রাসূল (সা) শিখিয়েছেন, দরিদ্র পাত্র ধনী পাত্র অপেক্ষা উত্তম যদি সে সৎ এবং নামাজী হয়। কেননা যে আল্লাহকে ভয় করবে সে আপনাকে ভালোবেসে না হোক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হলেও আপনাকে ঠকাতে পারবেনা। ভেবে দেখুন যদি আপনার স্বামী আপনাকে বাড়ী গাড়ী সম্পদে ভাসিয়ে রেখে অন্যত্র প্রেম করে বেড়ায়, আপনি কি সুখী হবেন? অথচ অনেক দরিদ্র পরিবারেও দেখবেন বাজার থেকে বড় মাছ এনে স্বামী স্ত্রী মিলে যখন গল্প করতে করতে কাটেন সেখানে প্রেমের উৎসব বয়ে যায়। টাকাপয়সা দিয়ে সুখ কেনা যায়না। কারণ চাকরী পরিবর্তন করা যায় কিন্তু চরিত্র পরিবর্তন করা যায়না। একজন ভালো স্বামী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্ত্রীকে সে সকল সুযোগ সুবিধা দেবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে- শ্বশুরবাড়ীর সাথে, স্ত্রীর বন্ধুবান্ধবের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখবে যাতে স্ত্রী খুশী থাকে।সে কখনোই স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যাবহার করবেনা যেহেতু সে জানে এর জন্য তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

আজকাল দেখা যায় পাত্র পেঁচার মত হলেও পাত্রী চাই ফর্সা, সুন্দরী, লম্বা, স্বাস্থ্যবতী, শিক্ষিতা, নব্যরুচিশীলা, বড়লোকের কন্যা। কোথাও চরিত্রের বা স্বভাবের ব্যাপারটি গুরুত্ব পায়না। অসংখ্যবার দেখেছি রীতিমত চারিত্রিক সমস্যাগ্রস্ত মেয়েদের হটকেকের মত বিকিয়ে যেতে অথচ বুদ্ধিমতি, সচ্চরিত্র, সুন্দর স্বভাবসম্পন্না মেয়েদের বিয়ে হয়না। অনেক শিক্ষিত এবং বুদ্ধিমান ভাইকে জিজ্ঞেস করেছি, “আচ্ছা, আপনারা শুধু চেহারা দেখে এমন মেয়ে কি করে বিয়ে করেন যাদের এতটুকু বুদ্ধি বা ম্যাচুরিটি নেই যে আপনি দু’ছত্র কবিতা বললে সে তা উপলব্ধি করতে পারে?” অনেকে এড়িয়ে গিয়েছেন, আবার অনেকে সততার সাথে উত্তর দিয়েছেন, “এদের সহজে ডমিনেট করা যায় যা বুদ্ধিমতি মেয়েদের করা যায়না”। একটি বিয়ের উদ্দেশ্য কি বন্ধুত্ব হওয়া উচিত না স্বৈরাচার, তা আপনাদের বিবেচনায় ছেড়ে দিলাম। তবে যার সাথে মনের কথা শেয়ার করা যায়না, যে আপনার সুবিধা অসুবিধা বোঝার মত বিবেকবুদ্ধি রাখেনা তার চেহারা দেখে সব কষ্ট ভুলে থাকা যায় কি’না এটা গবেষণা করার মত বিষয়।

একইভাবে অনেক মেয়েকে দেখেছি শুধু ভালো চাকরী করে দেখে এমন পাত্রকে বিয়ে করতে যার সাথে কক্ষনো তার মানসিক কোন বন্ধন সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা নেই। এমনই এক মহিলা বলেছিলেন, “জানো, আমি আমার ডাক্তার স্বামীর সাথে পঞ্চাশ বছর সংসার করেছি কিন্তু একটি দিনের জন্যও সুখী হইনি”। এভাবে একমাত্র জীবনটি কাটিয়ে দেয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত তা বিবেচনার বিষয় বটে!

যারা বিয়ে করে ফেলেছেন তারা সঙ্গীদের আভ্যন্তরীণ বিকাশে সহযোগিতা করে সুন্দর সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলুন আর যারা এখনো বিয়ে করেননি তারা বিয়ে করার সময় শুধু দৃষ্টি দিয়ে নয় অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। এই জীবনকে স্বর্গ বা নরকে পরিণত করা সিদ্ধান্ত আপনার হাতে- ভুল করবেন না।

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য ও মেয়েদের পিতা-মাতা-kanij fatema

Image

আমি এমন অনেক নাটক, সিনেমা দেখেছি যাতে দেখানো হয়েছে ছেলের বাবা বা মাকে ছেলের বউ সহ্য করতে পারছে না ৷ কিন্তু এমন কোনো নাটক, সিনেমা দেখিনি যাতে দেখানো হয়েছে মেয়ের বাবা -মা বৃদ্ধ বয়সে কোথাও যাবার জায়গা পাচ্ছেন না ; মেয়েটি চেষ্টা করছে যতটা সম্ভব সাহায্য করার, কিন্তু মেয়েটির স্বামী বা শ্বশুর বাড়ীর লোক সহ্য করতে পারছে না ৷ আশেপাশের লোক বলছে মেয়ের বাড়ী থাকবেন, কেমন দেখায়? কিন্তু এই মেয়েটির জন্যও তার বাবা -মায়ের অনেক ত্যাগ ছিল, এই মেয়েটির জন্যও তারা রাত জেগেছেন , ভেজা বিছানায় শুয়েছেন ৷ উপরন্তু তার নিরাপত্তার জন্য বাড়তি উদ্বেগ সহ্য করেছেন ; মেয়েটির বিয়ে দেবার সময় ছেলে পক্ষের যৌক্তিক-অযৌক্তিক সব দাবী মেনে নিয়েছেন, জামাই বা জামাই বাড়ীর কেউ আসলে টাকা থাকুক বা নাই থাকুক বাজারের বড় মাছ কিনেছেন ; কোমরে ব্যাথা নিয়েও হাসি মুখে জামাইয়ের জন্য রান্না করেছেন ৷ এত কিছুর পরেও কেন এই বাবা-মায়ের ত্যাগ , কষ্ট কোথাও মূল্যায়ণ পায় না? শুধু ‘মেয়ের বাবা-মা’ হওয়ার কারণে ?

আমি যখনি কোনো নাটক বা সিনেমায় সন্তানের জন্য মায়ের ত্যাগ দেখেছি আশ্চর্যজনক ভাবে সন্তানটি সর্বদাই ছেলে সন্তান ছিল , একবারের জন্যও আমি মেয়ে সন্তান দেখিনি। কারনটা কি হতে পারে? -আমি অনেকবার ভাবার চেষ্টা করেছি। মায়েরা কি ছেলেদের জন্য বেশী ত্যাগ করে যা ছেলেদের মনে রাখা উচিত? মায়েদের ছেলে সন্তানের প্রতি আকর্ষণটা একটু বেশী হতে পারে (অনেক মনোবিজ্ঞানী মনে করেন) কিন্তু ত্যাগ তো তারা মেয়েদের জন্য একটুও কম করেন না । তাহলে কেন মেয়ের মায়েদের ত্যাগটা সবসময় অনুচ্চারিতই থেকে যায়? আবার ভাবার চেষ্টা করেছি মেয়েরা হয়তো এমনিতেই বাবা মায়ের প্রতি যত্নশীল , ছেলেদের বরঞ্চ মনে করিয়ে দিতে হয় বাবা-মা তার জন্য কী কষ্ট করেছে । এটা হয়ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে সত্যি হতে পারে কিন্তু যদি আমরা ছেলেদের জন্য বাবা মা কতটা কষ্ট করেছেন শুধু তাই পুনঃ পুনঃ উচ্চারণ করতে থাকি তবে কি মেয়ের বাবা-মায়েদের ত্যাগ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে না?

এ তো গেলো এ দুনিয়ার কথা ৷ মৃত্যু পরবর্তী দুনিয়ার ব্যাপারেও ছেলের বাবা মায়ের সুবিধা মেয়ের বাবা মায়েদের থেকে বেশী দেখানো হয় ৷ ‘মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত’ কথাটা শুনলেই কেন যেন আমাদের মনে এক মা আর তার ছেলে এমন একটা ছবি ভেসে ওঠে ৷ একবার এক মফঃস্বলের এক মাওলানা যিনি ওই এলাকার মাদ্রাসার শিক্ষক এবং নিয়মিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন ও খুতবা দেন (অর্থাৎ একজন ধর্মীয় শিক্ষক এবং নেতা ) আমাকে বলছিলেন,  “মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত এবং বিয়ের পরে মেয়েদের জন্য মা-বাবার স্থান নিয়ে নেয় তার শ্বশুড়- শ্বাশুড়ী ৷” তিনি আমাকে যা বোঝাতে চাইছিলেন তার অর্থ দাঁড়ায় ছেলেদের বেহেশত সর্বদাই মায়ের পায়ের নীচে থাকে কিন্তু মেয়েদের বেহেশত বিয়ের সময় তার মায়ের পায়ের নীচ থেকে সরে গিয়ে স্থান নেয় শ্বাশুড়ীর পায়ের নীচে ৷ অর্থাৎ বিয়ের সময় মেয়ের মায়েরা বেহেশত হারান আর ছেলের মায়েরা বাড়তি একটি লাভ করেন ৷ এই সুত্র অনুযায়ী কোনো মহিলার যদি দুটি ছেলে থাকে তবে তিনি চারটি বেহেশতের উপরে দাড়িয়ে থাকেন কিন্তু যার দুটি মেয়ে তিনি মেয়েদের বিয়ে দেবার সাথে সাথে বেহেশতশূণ্য হয়ে যান ৷ এই যদি হয় অবস্থা তাহলে কোন নারী চাইবে মেয়ের মা হতে? কে চাইবে কষ্ট করে মেয়ে পেটে ধরে, তার জন্ম দিয়ে, তাকে বড় করার সব কষ্ট সয়েও বেহেশতশূণ্য হতে? তার থেকে ভালো ছেলের মা হওয়া – ছেলের জন্য কষ্ট করার পুরস্কার হিসাবে পার্মানেন্ট একটা বেহেশত তো থাকবেই তার উপরে বোনাস হিসাবে মেয়ের মায়েরটাও পাওয়া যাবে। এভাবে কি আমরা সবাই মিলে এমন একটা সামাজিক চাপ তৈরী করছি না যাতে সবার মধ্যে ছেলে সন্তান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে, আর মেয়ে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা কমে? আর এ থেকে তৈরী হয় ভারসাম্যহীনতা আর পরিনামে জন্ম নেয় নানা রকম পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা ।

আমরা জানি রাসুল (সঃ) এর সময় মক্কার লোকেরা মেয়ে শিশু সন্তানদের জীবন্ত কবর দিত; কেন? যে বাবা এ কাজটি করত তার কি একটুও কষ্ট হতনা ? অবশ্যই হত। ইতিহাস সাক্ষী যে একাজ করার সময় তাদের বুক ফেটে যেত; চোখের পানিতে মুখ ভেসে যেত; তারপরও কেন তারা এটা করত? কারণ সমাজের চাপ। সমাজ এমন এক পরিবেশ তৈরী করে রেখেছিল যাতে ছেলের পিতা-মাতা নানা ভাবে সুবিধা ভোগ করত আর মেয়ের পিতা-মাতাদের পড়তে হত অসুবিধা জনক অবস্থানে – কাজেই কেউই মেয়ে সন্তান চাইতো না ।

আমাদের এই আধুনিক যুগেও যদি আমরা নাটক , সিনেমা , সাহিত্য সর্বত্র ছেলের বাবা-মায়েদের ত্যাগ কে হাইলাইট করি আর মেয়ের বাবা-মাদের ত্যাগ কে অবহেলা (over look) করি তবে আমরাও এমন এক পরিবেশ তৈরী করছি যাতে সবার মধ্যে ছেলের বাবা- মা হওয়ার ইচ্ছা বাড়ে, আর মেয়ের বাবা- মা হওয়ার ইচ্ছা অনুৎসাহিত হয়। আমরা কি এভাবে মেয়ে ফীটাস এবরশন কে উত্সাহিত করছি না?

আমি একবার খুব নামকরা একজন ধর্মীয় বক্তার ওয়াজ শুনছিলাম ‘পিতা মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য’ এর উপর । বক্তব্যের শব্দ চয়ন এবং ধরন (Tone) এমন ছিল যে ওখানে উপস্থিত সব পুরুষের মনে হলো বাবা মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনে তারা যথেষ্ট মনোযোগী হতে পারছেন না এবং এর সম্ভাব্য কারণ বা বাধা হলো স্ত্রী । অপরপক্ষে উপস্থিত প্রতিটা নারীর মনে হলো যে শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীর প্রতি দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা সমালোচিত হলো । এমন ব্যাখ্যা নিঃসন্দেহে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে ভালো প্রভাব ফেলবে না । শুধু তাই না, এধরনের ব্যাখ্যা যেহেতু ছেলের মায়েদের সুবিধা জনক স্থানে রাখছে সেহেতু ওই ওয়াজে উপস্থিত সব নারীর মনেই (আমার নিজেরও ) ছেলের মা হওয়ার ইচ্ছা তৈরী হয়েছে , মেয়ের মা হতে তেমন কারোই সেদিন ইচ্ছা হয়নি । ওয়াজগুলো কি এমন হতে পারে না যা শুনে প্রত্যেকটা পুরুষ ভাবতে পারে, সন্তান হিসাবে তার বাবা মায়ের সাথে সে নিজে ভালো আচরণ করছে কিনা? এবং নিজ স্ত্রীকে তার বাবা মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার অসহযোগিতা করছে কি না? একই ভাবে প্রত্যেকটি নারীও ভাবতে পারে সন্তান হিসাবে তার বাবা মায়ের সাথে সে ভালো আচরণ করছে কিনা? এবং নিজ স্বামীকেও তার বাবা মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার অসহযোগিতা করছে কিনা ?

আমি এমন অনেক ইসলামিক ছেলে দেখেছি যারা নিজেরা অহরহই নিজের বাবা মাকে ধমকের সুরে কথা বলেন ,রেগে গেলে রূঢ় আচরণ করেন কিন্তু স্ত্রীকে নির্যাতন করেন এই অজুহাতে যে সে তার শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীর সঙ্গে যথেষ্ট ভালো আচরণ করেনা কেন; কাজের সহযোগীতার জন্য লোক থাকার পরেও অফিস থেকে ফিরে এসে ভাত রান্না করে দেয় না কেন । এরকম অদ্ভুত আচরণের কারণ সম্ভবতঃ আমাদের চার পাশের ‘পিতা মাতার প্রতি কর্তব্যের’- এই ধরনের পুরুষ কেন্দ্রিক ব্যাখ্যা। কারণ এইধরনের ব্যাখ্যা এমন একটা ধারণা তৈরী করে যে পুরুষদের অধিকার রয়েছে তার স্ত্রী কে নির্যাতন করার যদি তার মনে হয় স্ত্রী তার চাহিদা মত তার বাবা মায়ের সাথে ব্যবহার করছে না ।

একবার ইউনিভার্সিটির কিছু ছাত্র আমার অফিসে আসলো ,” ম্যাডাম , মা-বাবা বললে নাকি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিতে হবে ? ” আমি ওদেরকে ইসলাম পড়াতাম না কিন্তু ওদের মনে কোনো কারণে এই বিশ্বাস হয়েছে যে আমি হয়ত ওদের যুক্তিপূর্ণ কোনো সমাধান দিতে পারব । আমি জানতে চাইলাম- “তোমাদের এমন ধারণার কারণ কি?” ওরা বলল আমারই এক কলিগ, যিনি ছাত্রদের মাঝে মাঝেই ইসলাম সম্পর্কে সচেতন করেন এবং এ কারণে ছাত্রদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়ও, তিনি আজ ক্লাসে এ কথা বলেছেন । তিনি বলেছেন,” ইসলামে বাবা মায়ের অধিকার এত বেশী যে তারা যদি বলে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে তবে ছেলেদের দায়িত্ব হলো স্ত্রীকে তালাক দেয়া”। আমার কলিগের এই কথার প্রতিবাদ ছাত্ররা করতে পারে নি ঠিকই কিন্তু সাধারণ জ্ঞানে এটা ওদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। আরো সহজ ভাবে বললে বলতে হয় এটা তাদের কাছে অন্যায় মনে হয়েছে এবং ওদের মনে প্রশ্ন তৈরী হয়েছে ইসলাম এমন অন্যায়কে কিভাবে উত্সাহিত করতে পারে বা কিভাবে ইসলাম বাবা মাকে জালিম হবার ছাড়পত্র দিতে পারে?

আমি ওদেরকে বললাম –

কোরআনে বাবা-মা সম্পর্কে তিন ধরনের আয়াত এসেছে –

১. শুধু বাবা মার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব সম্পর্কিত আয়াত (কি করতে হবে)

২. বাবা মার অধিকার ও অন্যান্যদের অধিকার (একসঙ্গে)সম্পর্কিত আয়াত

৩. বাবা-মার অধিকারের সীমা সম্পর্কিত আয়াত (কোন কোন ক্ষেত্রে বাবা মায়ের কোনো অধিকার নেই)

প্রথম ধরনের আয়াত গুলোর ( শুধু বাবা মার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব সম্পর্কিত) মধ্যে পড়ে সূরা বনী ইসরাঈলের ২৩ ও ২৪ নং আয়াত, সুরা লুকমানের ১৪ নং আয়াত ও সুরা আহ্কাফের ১৫ নং আয়াত।

” তোমার প্রতিপালক আদেশ করছেন, তোমরা তাকে ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করনা এবং তোমরা তোমাদের পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো ; তাদের একজন কিংবা উভয়ই যদি তোমাদের জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তাহলে তাদের সাথে বিরক্তি সূচক কিছু (উফ ) বলো না এবং ধমক দিওনা, তাদের সাথে সম্মান সূচক নম্র কথা বলো।

অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো, এবং বলো, হে আমার মালিক তাদের প্রতি ঠিক সেভাবে দয়া করো যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন পালন করেছিলেন। ” [বনি ইসরাইল ২৩, ২৪]

“আমি মানুষকে তাদের পিতা মাতার ব্যাপারে সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি , তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দুই বছর পর সেই সন্তান বুকের দুধ খাওয়া ছেড়েছে , সুতরাং আমার শোকর আদায় করো এবং পিতা মাতার কৃতজ্ঞতা আদায় করো ; তোমাদেরকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে ।” [সুরা লুকমান ১৪]

আমি মানুষকে আদেশ দিয়েছি সে যেন নিজের পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার করে ; কেন না তার মা তাকে অত্যন্ত কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে প্রসব করেছে এবং এভাবে গর্ভে ধারণ করতে ও স্তন্য পান করানোর সময় তিরিশটি মাস; অতঃপর সে তার পূর্ণ শক্তি প্রাপ্ত হয় এবং ৪০ বছরে উপনীত হয় ; তখন সে বলে , হে আমার মালিক , এবার তুমি আমাকে সমর্থ দাও ……” [আহকাফ: ১৫]

দ্বিতীয় ধরনের আয়াতে অন্যান্যদের অধিকারের সাথে সাথে পিতামাতার অধিকারের কথাও বলা হয়েছে –

“তুমি বল, আসো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যা নিষিদ্ধ করেছেন তা বলে দেই , তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো শরীক করবেনা , পিতা মাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে, দারিদ্রের আশংকায় কখনও তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না ……..”[সূরা আনআম: ১৫১]

” তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে ও কোনো কিছুকে তার সাথে শরীক করবে না এবং পিতা – মাতা , আত্মীয় স্বজন , ইয়াতিম , অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী সাথী , পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। ” [সূরা নিসা: ৩৬]

আর তৃতীয় ধরনের আয়াতে পিতা মাতার অধিকারের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে – বলা হয়েছে কোথায় কোথায় বাবা মায়ের অধিকার নেই।

প্রথমতঃ

পিতা মাতা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক করতে বললে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। সুরা লোকমানে আল্লাহ বাবা মায়ের প্রতি ‘সদ্ব্যবহার’ কি তা ব্যাখা করেছেন – “আমি মানুষকে তাদের পিতা মাতার ব্যাপারে সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি,তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দুই বছর পর সেই সন্তান বুকের দুধ খাওয়া ছেড়েছে , সুতরাং আমার শোকর আদায় করো এবং পিতা মাতার কৃতজ্ঞতা আদায় করো ; তোমাদেরকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে” এর পরপরই বলছেন “সদ্ব্যবহার” মানে “আনুগত্য” না। আল্লাহ বলছেন, ” তোমার পিতা-মাতা যদি তোমাকে পীড়া পীড়ি করে যে তুমি আমার সাথে শিরক করবে, যে ব্যাপারে তোমাদের কোনো কোনো জ্ঞানই নেই , তাহলে তুমি তাদের কথা মানবে না,তবে দুনিয়ার জীবনে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে …..”

দ্বিতীয়তঃ

অন্যায় কাজে সন্তানের সমর্থন পাবার অধিকার পিতা মাতার নেই,সে অন্যায় যে কারো ক্ষেত্রেই হোক না কেন।

“হে ঈমানদারগন, তোমরা সর্বদাই ইনসাফের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থেকো এবং আল্লাহর জন্য সত্যের সাক্ষী থেকো যদি তা তোমার নিজের, নিজ পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়দের বিপরীতে যায় …তবুও।” – [সূরা নিসা: ১৩৫]

অর্থাৎ পিতা-মাতা অন্যায় করলে বা অন্যায় দাবী করলে আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন তার বিরোধিতা করার এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকার ; তবে মনে রাখতে হবে তাদের সঙ্গে ব্যবহার ভালো করতে হবে এবং ধমক দেয়া যাবে না ।

এভাবে আমার ছাত্র ছাত্রীরা জেনে গেল তাদের কে পিতামাতার অধিকার সম্পর্কে খুবই খন্ডিত ধারণা দেয়া হয়েছিল। যার ফলে এমন এক ধারণার তৈরী হয়েছিল যা ইসলামের সঠিক ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। এরূপ খন্ডিত ধারণার ফল আমাদের সমাজে ভালো হয়নি , এটি খুলে দিয়েছে অনেক অবিচারের দরজা – এটি ব্যবহৃত হয়েছে ছেলে বা ছেলে পক্ষের সুবিধা বৃদ্ধির আর মেয়ে ও মেয়ে পক্ষের সুবিধা বঞ্চিত করার হাতিয়ার হিসাবে ।

কেন এমন খন্ডিত ধারণা সৃষ্টি হলো ? কারণ সম্ভবতঃ আমরা যেসব ইসলামিক আলোচনা বা ওয়াজ শুনি এবং যেসব ইসলামিক সাহিত্য পড়ি তাতে শুধুমাত্র প্রথম ধরনের আয়াত গুলোকেই তুলে ধরা হয় , অন্য ধরন দুটি ততটা গুরুত্ব পায়না। বিশেষ করে সুরা নিসার ১৩৫ নং আয়াতটি সম্পূর্ণ অনুচ্চারিতই থেকে যায় ,

“হে ঈমানদারগন, তোমরা সর্বদাই ইনসাফের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থেকো এবং আল্লাহর জন্য সত্যের সাক্ষী থেকো যদি তা তোমার নিজের, নিজ পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়দের বিপরীতে যায় তবুও “-

ফলে সন্তানরা তো বটেই বাবা মায়েরাও ভেবে বসেন তাদের অধিকার অসীম; এমনকি তারা সন্তানকে অন্যায় আদেশ করারও অধিকার রাখেন। আমাদের সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ছেলে সন্তানদের পিতামাতাকে করে তোলে অনিয়ন্ত্রিত শক্তির ধারক। অথচ এই আয়াতটি যদি পিতা-মাতার অধিকারের সীমা হিসাবে উচ্চারিত হত তবে বাবা মায়েরাও সন্তানের কাছে কিছু দাবী করার আগে ভাবতেন তাদের এ দাবী করার অধিকার আসলেই আছে কি না , তারা এমন কিছু দাবী করছেন কিনা যা ন্যায় ও ইনসাফের বাইরে। এমনটা হলে অনেক পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা তৈরীই হত না ।

কোরআনের প্রথম দু’ধরনের আয়াত সমূহ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে পিতা মাতার প্রতি  ‘সদ্ব্যবহার বা ভালো ব্যবহার’ এর কথা বার বার বলা হয়েছে এবং এখনে এটাও লক্ষনীয় যে একই ভালো ব্যবহারের কথা আরো অনেকের প্রতিও করতে বলা হয়েছে । এ আয়াত গুলোতে বাবা মায়ের জন্য বিশেষভাবে যা বলা হয়েছে তা হলো –

১. বিরক্তি সূচক কিছু (উফ ) বলো না এবং ধমক দিও না

২. সম্মান সূচক নম্র কথা বলো

৩.বিনয়াবনত থেকো

৪. দোয়া কর

৫. কৃতজ্ঞতা আদায় করো

আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে অনেকে নিজে অহরহ নিজের বাবা -মার সাথে ধমকের সুরে কথা বলেন,রেগে গেলে রূঢ় আচরণ করেন; কিন্তু স্ত্রীকে নির্যাতন করেন এই অজুহাতে যে সে তার শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীর সঙ্গে যথেষ্ট ভালো আচরণ করছে না এবং আমাদের সমাজে এমন আচরণকে অনেক ক্ষেত্রেই ‘খোদা ভীরু ‘ আচরণ মনে করা হয়। কারণ মনে করা হয় তারা এটা করছেন নিজের বাবা মায়ের সাথে তার স্ত্রীর ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য। অনেকে শুধু স্ত্রীর সাথে খারাপ ব্যবহার করেই ক্ষান্ত হন না বরং এই অজুহাতে নিজ শ্বশুড়-শাশুড়ীর সাথেও খারাপ আচরণ করেন। উপরে উল্লিখিত তিন ধরনের আয়াতের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি এই ব্যক্তিটি তিন ভাবে কোরআনের বিরুদ্ধ আচরণ করছেন –

১. কোরআন সবার আগে বলেছে নিজেকে বাবা মায়ের সঙ্গে নম্র ভাষা ব্যবহার করতে ও বিনয়াবনত থাকতে এবং তিনি তা করছেন না ।

২. স্ত্রীর উপর নির্যাতন করছেন।

৩. নিজ শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীর সাথে সদ্ব্যবহার করছেন না (অথচ স্ত্রীর কাছে চাইছেন সে তার শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীর সাথে ভালো ব্যবহার করুক)

“এবং পিতা – মাতা , আত্মীয় স্বজন , ইয়াতিম , অভাব গ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী সাথী , পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে।”[সূরা নিসা:৩৬]

এখানে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্যণীয়- কোরআনে বাবা মায়ের প্রতি সদ্বাবহারের আয়াত গুলো শুধু “ছেলের বাবা মায়ের ” জন্য আসেনি। এ সবকটি আদেশই ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তান উভয়ের জন্যই এসেছে । ছেলের বাবা-মায়েদের এসব অধিকার রয়েছে আর মেয়ের বাবা-মায়ের নেই এমনটা কোরআন বলেনি। কোরআন ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তান উভয়ের মা বাবাকেই তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছে,

“আমি মানুষকে তাদের পিতা মাতার ব্যাপারে সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি , তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং….”[সুরা লুকমান: ১৪]

“আমি মানুষকে আদেশ দিয়েছি সে যেন নিজের পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার করে ; কেননা তার মা তাকে অত্যন্ত কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে প্রসব করেছে …”। [সূরা আহকাফ: ১৫]

কিন্তু আমাদের নাটক, সিনেমা, এমনকি অধিকাংশ ইসলামী সাহিত্যও মেয়ের বাবা-মায়েদের ত্যাগকে উপেক্ষা করে যাচ্ছে । আমি আশা করব যারা ইসলামী সাহিত্য লিখছেন, ইসলামিক আলোচনা করছেন, বা গল্প -নাটক লিখছেন তারা যখনি পিতা-মাতার হক বিষয়টি আনবেন তখন অবশ্য অবশ্যই পরিপূর্ণ ছবিটি দিবেন যাতে করে মেয়ের বাবা-মায়েদের ত্যাগটি আড়ালে পড়ে না যায় আর কারো মনে মেয়ের মা-বাবা হবার প্রতি অনীহা তৈরী না হয়।

* * * ** * * *

লেখিকা সম্পর্কে:

কানিজ ফাতেমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Public Administration এ প্রথম শ্রেনী তে মাস্টার্স শেষ করেন; দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে MBA তে প্রথম স্থান ও প্রেসিডেন্ট স্বনপদক লাভ করেন। এরপর কানাডার কিংসটনের কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে টিচার্স ট্রেনিংরত। তার প্রকাশিত বই : ‘বিয়ে ও পরিবার , সমকালীন জিজ্ঞাসা’; – অনুবাদ বই:’বৈবাহিক সমস্যা ও কোরআনের সমাধান’ তার আগ্রহ –নারী উন্নয়ন; শিশু-কিশোর বিষয়ক (Teaching and Parenting)৷ বর্তমানে পরিবার সহ কানাডাতে বসবাস করছেন ৷

কুরআনের সূরা গুলোর বাংলা নাম

১।

আল- ফাতিহা (প্রারম্ভিকা)

২।

আল-বাকারা (গাভী)

৩।

আল-ইমরান (ইমরানের পরিবার)

৪।

নিসা (নারী জাতি)

৫।

আল-মায়িদাহ (অঙ্গীকার)

৬।

আল-আনাম (গৃহপালিত পশু)

৭।

আল-আরাফ (প্রাচীর বেষ্টনীর উপরিভাগের নাম)

৮।

আল-আনফাল (যুদ্ধে-লব্ধ ধনসম্পদ)

৯।

আত-তাওবাহ (অনুশোচনা)

১০।

ইউনুস (একজন নবীর নাম)

১১।

হুদ (একজন নবীর নাম)

১২।

ইউসুফ (একজন নবীর নাম)

১৩।

আর-রাদ (মেঘের গর্জন)

১৪।

ইবরাহীম (একজন নবীর নাম)

১৫।

আল-হিজর (একটি শহরের নাম)

১৬।

আন-নাহল (মৌমাছি)

১৭।

বনি ইসরাইল (ইসরাইলের বংশধরঃইহুদী জাতি)

১৮।

আল-কাহফ (বিস্তীর্ণ পার্বত্য এলাকা)

১৯।

মারিয়াম (নবী ঈসা(আঃ) এর মা)

২০।

ত্বা হা (ত্বা হা)

২১।

আল-আম্বিয়া (নবীগণ)

২২।

আল-হাজ্ব (হজ্ব)

২৩।

আল-মুমিনুন (মুমিনগণ)

২৪।

আন-নূর (আলো)

২৫।

আল-ফুরকান (সত্য মিথ্যার পার্থক্য নির্ধারণকারী গ্রম্থ)

২৬।

আশ-শুআরা (কবিগণ)

২৭।

আন-নমল (পিপীলিকা)

২৮।

আল-কাসাস (কাহিনী)

২৯।

আল-আনকাবুত (মাকড়সা)

৩০।

আল-রুম (একটি শহরের নাম)

৩১।

লুকমান (একজন জ্ঞানী ব্যাক্তি)

৩২।

আস-সাজদাহ (সিজদা)

৩৩।

আল-আহযাব (যন্ত্রণা/কষ্ট )

৩৪।

আস-সাবা (রানী সাবা/শহরের নাম)

৩৫।

আল-ফাতির (আদি স্রষ্টা)

৩৬।

ইয়া সিন (ইয়া সিন)

৩৭।

আস-সাফফাত (সারিবদ্ধভাবে দাড়ানো)

৩৮।

সোয়াদ (আরবি বর্ণ)

৩৯।

আয-যুমার (দল-বদ্ধ জনতা)

৪০।

আল-মুমিন (বিশ্বাসীগণ)

৪১।

হামিম সাজদাহ (সুস্পষ্ট বিবরণ)

৪২।

আশ-শূরা (পরামর্শ)

৪৩।

আয-যুখরুফ (সোনাদানা)

৪৪।

আদ-দুখান (ধুম্ররাশি, smoke)

৪৫।

আল-জাসিয়াহ (নতজানু)

৪৬।

আল-আহকাফ (বালুর পাহাড়,winding sand tracts )

৪৭।

মুহাম্মদ [নবী মুহাম্মদ স:]

৪৮।

আল-ফাতহ (বিজয়)

৪৯।

আল-হুজুরাত (বাসগৃহসমুহ)

৫০।

ক্বাফ (আরবি বর্ণ)

৫১।

আয-যারিয়াত (বিক্ষেপকারী বাতাস)

৫২।

আত-তুর (একটি পাহাড়ের নাম)

৫৩।

আন-নাজম (তারা)

৫৪।

আল-ক্বমর (চন্দ্র)

৫৫।

আর-রাহমান (পরম করুণাময়)

৫৬।

আল-ওয়াকিয়াহ (নিশ্চিত ঘটনা)

৫৭।

আল-হাদিদ (লোহা)

৫৮।

আল-মুজাদিলাহ (অনুযোগকারিণী)

৫৯।

আল-হাশর (সমাবেশ)

৬০।

আল-মুমতাহিনা (নারী যাকে পরিক্ষা করা হবে)

৬১।

আস-সাফ (সারবন্দী সৈন্যদল)

৬২।

আল-জুমুআহ (সম্মেলন/শুক্রবার)

৬৩।

আল-মুনাফিকুন (কপট বিশ্বাসীগণ)

৬৪।

আত-তাগাবুন (মোহ অপসারণ)

৬৫।

আত-ত্বালাক (তালাক)

৬৬।

আত-তাহরীম (নিষিদ্ধকরণ)

৬৭।

আল-মুলক (সার্বভৌম কতৃত্ব)

৬৮।

আল-ক্বলম (কলম)

৬৯।

আল-হাক্ক্বাহ (নিশ্চিত সত্য)

৭০।

আল-মাআরিজ (উন্নয়নের সোপান)

৭১।

নূহ (একজন নবী)

৭২।

আল-জ্বিন (জ্বিন সম্প্রদায়)

৭৩।

মুযাম্মিল (বস্ত্রাচ্ছাদনকারী)

৭৪।

মুদাসসির (পোশাক পরিহিত)

৭৫।

আল-কিয়ামাহ (পুনরু্ত্তান)

৭৬।

আল-ইনসান (মানুষ)

৭৭।

আল-মুরসালাত (প্রেরিত পুরুষগণ)

৭৮।

আন-নাবা (মহাসংবাদ)

৭৯।

আন-নাযিয়াত (প্রচেষ্টাকারী)

৮০।

আবাসা (তিনি ভ্রুকুটি করলেন)

৮১।

আত-তাকবির (অন্ধকারাচ্ছন্ন)

৮২।

আল-ইনফিতার (বিদীর্ণ করা)

৮৩।

আত-তাতফিক (প্রতারণা করা)

৮৪।

আল-ইনশিকাক (খন্ড-বিখন্ড করণ)

৮৫। আল-বুরুজ (নক্ষত্রপুন্জ)

৮৬।

আত-তারিক (রাতের আগন্তুক)

৮৭।

আল-আলা (সর্বোন্নত)

৮৮।

আল-গাশিয়াহ (বিহ্বলকর ঘটনা)

৮৯।

আল-ফজর (ভোরবেলা)

৯০।

আল-বালাদ (নগর)

৯১।

আশ-শামস (সূর্য)

৯২।

আল-লাইল (রাত্রি)

৯৩।

আদ-দুহা (পূর্বান্হের সুর্যকিরণ)

৯৪।

আল-ইনশিরাহ (প্রশস্তকরণ)

৯৫।

আত-তীন (ডুমুর)

৯৬।

আল-আলাক (রক্তপিন্ড)

৯৭।

আল-ক্বাদর (মহিমান্বিত)

৯৮।

আল-বাইয়িনাহ (সুস্পষ্ট প্রমাণ)

৯৯।

আল-যিলযাল (ভূমিকম্প)

১০০।

আল-আদিয়াত (অভিযানকারী)

১০১।

আল-কারিয়াহ (মহাসংকট)

১০২।

আত-তাকাছুর (প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা)

১০৩। আল-আসর (সময়)

১০৪।

আল-হুমাযাহ (পরনিন্দাকারী)

১০৫।

ফীল (হাতি)

১০৬।

আল-কুরাইশ (কুরাইশ গোত্র)

১০৭।

আল-মাউন (সাহায্য-সহায়তা)

১০৮।

আল-কাওসার (প্রাচুর্য)

১০৯।

আল-কাফিরুন (অবিশ্বাসী গোষ্ঠী)

১১০।

আন-নাসর (স্বর্গীয় সাহায্য)

১১১।

লাহাব (জ্বলন্ত অংগার)

১১২।

আল-ইখলাস (একত্ব)

১১৩।

আল-ফালাক (নিশিভোর)

১১৪।

আন-নাস (মানবজাতি)

হাসুন প্রাণ খুলে

Imageএক ব্যক্তি রাস্তায় দাঁড়িয়ে গান গাইছিল, ‘রূপে আমার আগুন জ্বলে রে। তখন বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি গাছে পানি দিচ্ছিলেন। তখন তিনি সেই গান শুনতে পেয়ে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার উপর এক বালতি পানি ঢেলে দিলেন। তখন নিচের লোকটা রেগে গিয়ে তাকে ধমকালেন, ‘এই মিঞা, আমার গায়ে পানি ঢাললেন কেন? তখন ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি উত্তর দিলেন, ভাই আমার কাছে ফায়ার সার্ভিসের নাম্বার নাইতো তাই আপনার আগুন নিভাইয়া দিলাম।
সংগ্রহে : মেহনাজ বিনতে সিরাজ, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর থেকে।

একজন মানুষকে টেলিগ্রাম করা হলঃ বউ মারা গেছে, কবর দিব নাকি পুড়িয়ে ফেলব ?
সেই মানুষ সাথে সাথে উত্তর পাঠালঃ কোন রিস্ক নেবার দরকার নাই; প্রথমে পোড়ান, তারপর সেই ছাই কবর দিন।

সংগ্রহে : মুক্তা আক্তার, আলোনীয়া, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

দৌড়ে ডাক্তারের কাছে এসে এক ভদ্র মহিলা জানালেন তার স্বামীর পেটে একটা ইঁদুর ঢুকে গেছে।
ভয় নেই, ডাক্তার অভয় দিলেন।
আপনার স্বামীর মুখের কাছে একটা শুঁটকি নাড়তে থাকুন, ইঁদুর বের হয়ে আসবে।
আমিও এসে যাচ্ছি কিছেক্ষণের মধ্যে।
বাড়ীতে গিয়ে ডাক্তার সাহেব দেখলেন ভদ্রমহিলা তার স্বামীর মুখের সামনে এক বাটি দুধ ধরে চুকচুক করছেন।
কি ব্যাপার ?
ডাক্তার বিরক্ত হয়ে বললেন, ইঁদুর কখনো দুধ খায় ? আপনাকে না শুঁটকি নাড়তে বলেছি।
তা বলেছেন। ভদ্রমহিলার উত্তর, কিন্তু ইঁদুরটা ধরার জন্য যে ওর পেটে আমি বেড়াল ঢুকিয়ে দিয়েছি। আগে তো ওটা বের করি।
সংগ্রহে : রাছেল আল ইমরান, চরপাতা, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর।

ডাক্তার : আপনাকে কতবার বলেছি চর্বিজাতীয় খাবার খাবেন না।
রোগী : খেতে চাই না, কিন্তু জিহ্বা যে মানে না।
ডাক্তার : এত বড় শরীর ছোট এক জিহ্বার সঙ্গে পারেন না, এ কেমন কথা?
রোগী : জিহ্বা তো আর একা নয় পেটও যে তাকে সাপোর্ট করে।
একদিন এক রোগী ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলল, ডাক্তার সাব, আমার একটা অদ্ভুদ রোগ হয়েছে।
ডাক্তার বললেন, কি রকম?
রোগী বলল, আমি অল্পতেই রেগে যাই। গালাগালি করি
ডাক্তার বলল, ব্যাপারটা একটু খুলে বলুন তো।
রোগী বলল, হারামজাদা, কয়বার খুইল্লা কমু!!!
সংগ্রহে : ইসামাইল হোসেন, পূর্ব আলোনীয়া, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

এক গরীব ব্যক্তির ঘরে চোর ঢুকে।
গরীব বেচারা চোরকে দেখে হাসতে শুরু করে।
চোর অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে- ‘আমাকে দেখে আপনি হাসছেন কেন?’
জবাবে লোকটি বললঃ হাসছি এই জন্য যে, আমার ঘরে দিনের আলোতেও কিছু পাওয়া যায় না। তো রাতের তুমি অন্ধকারে কি খুঁজে পাবে? তুমি একটা ধরা খেলে।
সংগ্রহে : মো: পিয়াস হোসেন, পূর্ব আলোনীয়া, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

জনৈক এক ব্যক্তি রিকশাওয়ালাকে ডেকে,
ব্যক্তি: এই রিকশাওয়ালা যাবে?
রিকশাওয়ালা: হ্যা, যাব।
ব্যক্তি: ঠিক আছে, যাও।
সংগ্রহে : কামাল উদ্দিন রায়হান, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্‌রাসা, ঢাকা।

আল কুরআন : সালাম দিয়ে গৃহে প্রবেশ করা

“হে মু’মিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ছাড়া অন্য কারো গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদের সালাম না করে প্রবেশ করো না। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, আশা করা যায় যে, তোমরা এর প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখবে।
(সূরা আন নূর- ২৭)”

রাসুল (সা) বলেছেন কথার পূর্বে সালাম দেওয়ার জন্য সালাম মানে একে অন্যের জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা। এটি আমাদের জন্য রাসুল (সা) এর পক্ষ থেকে পালিত একটি সুন্নাত।
এজন্য পরিচিত এবং অপরিচিত কারো ঘরে প্রবেশ করতে হলে সালাম দিয়ে অনুমতি নিতে হয়। এতে কোন ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয় না বা বিব্রত কর পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হয় না।

প্রিয় বন্ধুরা, সালামের মাধ্যমে আমরা একে অন্যের মঙ্গল কামনা করব আর কারো গৃহে প্রবেশ করার পূর্বে সালাম দানের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করব।

বিবাহ সমাচার— দ্বীন উইকলি

ভার্সিটির শেষ বর্ষে বিয়ে করলাম, বর্তমান আদু ভাই টাইপ সমাজে এটা নাকি অল্প বয়সে বিয়ে করা। যাই হোক , আমি আর আমার বউ সি এন জির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি, হঠাৎ ভার্সিটির এক স্যারের সাথে দেখা, আমার মত একজন দাঁড়িওয়ালা লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো এক নিকাবির পাশে। ব্যস, স্যার ২+২=৪ মিলায় দিলেন।

– কি ব্যাপার ! তুমি বিয়া করসো নাকি !
– জ্বি স্যার !
– হুহ ! ( স্যার একটা অদ্ভুত শব্দ করলেন, উচ্চারণটা হুহ+ঘুত এর কাছাকাছি, অবজ্ঞাসূচক ও ব্যাঙ্গাত্মক। কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তিনি তার আয়নার মত চকচকে শেভ করা গালে বিকালের রোদ প্রতিফলিত করতে করতে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলেন)

ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য ও নিজের পবিত্রতা রক্ষার জন্য আল্লাহর দেয়া সমাধান গ্রহণের বিকল্প নেই। যখন অনুভব করলাম সমাধান গ্রহণের সামর্থ্য ও তাওফিক উভয়টাই আল্লাহ করে দিয়েছেন তখন আর দেরি করা নির্বুদ্ধিতা বলে মনে হল।

সমাধানের প্রথমটা হল সিয়াম বা চলতি কথায় রোযা রাখা, আর দুই নাম্বার বিয়ে করা !

১ নাম্বার সমাধানটা স্থায়ী সমাধান নয়, বিশেষ অবস্থায় অস্থায়ী সমাধান,
আর ২ নম্বর হচ্ছে স্থায়ী ও অপেক্ষাকৃত উত্তম সমাধান।

দাওয়াতের কাজ নাকি ঘর থেকে শুরু করতে হয়। আমার আব্বা-আম্মা সমাজের টিপিকাল সেমি-সেকুলার ট্রেডিশনাল মুসলিম আব্বা আম্মা। তাদের সাথে কয়েক সেশন আলোচনা করে ক্লান্ত হলাম, অবশেষে তারা অনুরোধে ঢেঁকি গিলে ফেললেন।

বিয়ে করব !

– এ কথাটা শোনার পর নদী দুই ভাগ হয়ে গেল। একদিকে দজলা, আরেকদিকে ফোরাত।

কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে।

কেউ দাঁড়ায় পাশে, আর কেউ দাঁত বের করে হাসে।

বলাই বাহুল্য যারা মুরুব্বী গোছের আত্মীয় তারা সামনে মুরুব্বি’আনা ধরে রাখার জন্য সরাসরি দাঁত বের করে না হাসলেও ভিতরে ভিতরে ঠিকই কাশি আটকাচ্ছিলেন বুঝা যেত। আর সমবয়সীদের স্বভাবই হচ্ছে ‘তাল দেওয়া’; যে আন্তরিকভাবে পরামর্শ দিবে সেও বলবে , “হুম, ঠিক, বর্তমান সময়ে এই ফিতনার যুগ। পবিত্রতা রক্ষার জন্যে বিয়ে করা দরকার। তাছাড়া ইউ নো, সবকিছুই নির্ভর করে নিয়তের উপর। সেদিক থেকে সব কাজই ইবাদত’; কেউ কেউ আবার এক কাঠি সরেস, সুযোগ পেয়ে একটা জাল হাদীসও শুনিয়ে দিতে ছাড়ল না। “হায় ! বিবাহিতের এক রাকা’আত নামায, অবিবাহিতের সত্তর রাকা’আত নামাযের সমান”। পালাও ! কৈ আইলাম !

ফলে একদিকে সত্যিকার সৎ বন্ধুদের সদুপদেশ, আর আরেকদিকে কানাঘুষাকারীদের কারণে ‘কি একটা অবস্থা’।

এরই মধ্যে আবার স্যারের ঐ অদ্ভূত “হুত, ঘুত” টাইপ শব্দ করে ভিড়ের মধ্যে অন্তর্ধান হওয়া।
যাই হোক, ব্যক্তিগত আলোচনা করা মূল প্রসংগ না। মূল প্রসংগ হল বিয়ের বয়স কোনটা ঠিক?
বিয়ে একটি সুন্নাহ, যা সামর্থ্যবানের উপর ওয়াজিব। এবং অবশ্যই একটি ইবাদত।

অল্প বা বেশি বয়সে বিয়ে নয়, সঠিক সময়ে বিয়ে করুন ।

শারীরিক, মানসিক, আর্থিক এই তিনটি বিষয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে পাত্রী খোঁজা শুরু করেদিন। শারীরিক সামর্থ্য ব্যক্তি নিজেই ভাল অনুভব করতে পারবে, আর মানসিক সামর্থ্য আছে কিনা নাই সেটা ঈমান ও তাকওয়ার সাথে সমানুপাতিক। কিছুদিন আগেই এক ভাইয়ের লেখা পড়লাম, চমৎকার লিখেছেন,

“কথাটা চিন্তা করে মাথাটা চক্কর দিল।

আমরা কি নাবালক হয়ে যাচ্ছি ? দুনিয়া এগিয়ে যাচ্ছে, তার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে সাবালকত্বের বয়সসীমা । ১৬-১৮-১৯-২১-২৪ এরপর কত ? ইতিহাসে দেখি ১৫ বছর বয়সে রাজত্ব পেয়ে বাকি ১৫ বছরে বিশ্বজয় করতে। মুহম্মদ বিন কাসিম ১৭ বছর বয়সে সিন্ধু জয় করেছিলেন । তিনি ছিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মেয়ে জামাই । তারমানে তিনি বিবাহিত ছিলেন। কিন্তু তাঁর চেয়ে ৭ বছরের বড় আজকের যুবকটি স্যরি শিশুটি এখনো নাবালক…”

অবশ্য বলাই বাহুল্য, এই নাবালকত্ব কৃত্রিম ও আরোপিত, অনেকাংশে স্বেচ্ছা নির্বাচিত। যেমন বিয়ের কথা বললেই অনেকে বয়সের কথা চিন্তা করে। আবার অপরদিকে ঠিকই ক্লাস সেভেন-এইট থেকেই টাংকির পিছনে ফিল্ডিং করা শুরু হয়ে যায়। ফলে ক্রমেই দেখা যায় নানাবিধ অনাচার ও অশ্লীল আচরণ। এমনকি জুমার খুতবা শুনতে গিয়ে একদিন খতীব জনৈক মুফতি বলেই ফেললেন, ‘আজকালকার ক্লাস ওয়ান টু পড়ুয়া বাচ্চারাও যা জানে তা আমরা এখন পর্যন্ত এই পঞ্চাশ বছরেও জানি না। কাজেই এদের সামনেও মহিলারা পর্দা করবেন”। যথার্থই বলেছেন।

বাকি থাকল আর্থিক সামর্থ্য, যাদের আছে তাদের ব্যাপারে কথা বলা নিষ্প্রয়োজন। আর যারা মনে করছেন ‘আমার টেহা নাই’, তাদের জন্যে এই লেখাটি, বিয়ে করতে না পারলে সাওম???

তিন ব্যক্তিতে আল্লাহ অবশ্যই সাহায্য করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা হচ্ছেন, ১ মুজাহিদ; ২ মুকাতিব ; ৩ আর পবিত্রতা রক্ষার জন্যে যে ব্যক্তি বিয়ে করতে চায়। [দেখুন সহীহ তিরমিযি ১৬৫৫]

আল্লাহর উপর ভরসা করুন, যদি বিয়ে করার কোন উপায়-ই নাই থাকে তাহলে আর কি করা , সবরের পরীক্ষা দিন, ইনশা আল্লাহ প্রতিদানে আল্লাহ আপনাকে আরো ভালো কিছু দান করবেন।

“যারা বিবাহে সামর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন…” [সূরা আন-নূর ২৪:৩৩]

“…তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে” [সূরা আর-রুম ৩০:২১]

“আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় কোন ফিতনা রেখে যাচ্ছি না।” [বুখারী ও মুসলিম]

ফিতনার দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন। ফিতনার মধ্যে পড়লেন, পাশ-ফেল কিছু একটা করলেন।

এর থেকে সেই কঠিন পরীক্ষার দিকে না যাওয়াই উত্তম নয় কি?

ইব্রাহীম ইবন মায়সারা বলেনঃ তাউস আমাকে বলেছেন, “ হয় বিয়ে করো, নইলে আমি তোমাকে সেই কথাই বলবো যা উমার বলেছিলেন আবুল যাওয়ায়িদ কে, ‘দুইটা কারণ ছাড়া তোমার অবিবাহিত থাকার আর কোন কারণ দেখি না। হয় তুমি অক্ষম, নইলে অসচ্চরিত্র লোক”।